ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের ক্ষোভ,পোল্ট্রি শিল্প বাঁচানোর আকুতি

টাকা ধার করে খামার চালাইছি, এহন ডিম বেইচা ফিডের দামও ওঠে না! আমরা বাঁচুম কেমনে?”—চোখে ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ধামরাইয়ের এক প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি।​পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) ও ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে ডিম-মুরগির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে এবার ভিন্নধর্মী ও কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকার ধামরাইয়ের স্থানীয় পোল্ট্রি খামারিরা।

আজ ২৯শে জুন (সোমবার) সকালে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার কচমচে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিম ভেঙে এবং মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার গল্প শোনালেন তারা।

ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতি’র ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি অংশ নেন।

​মানববন্ধনে ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বর্তমান সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন,বাজারে পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের দাম এখন আকাশচুম্বী। উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, পাইকারি বাজারে ডিম ও মুরগির দাম তার অর্ধেকও মিলছে না। ফলে ধামরাইয়ের শত শত খামারি দিনের পর দিন লোকসান গুনছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং অনেকেই খামার চিরতরে বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুজন মাহমুদ। তিনি খামারিদের এই দুর্দশাকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ উল্লেখ করে বলেন, “এখানকার খামারিরা গত ছয় মাস ধরে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে, ঋণগ্রস্ত হয়ে কোনোমতে খামারগুলো টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এখন আর তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব না।”

​বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ খামারিরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, লোকসান দিয়ে বাজারে ডিম বিক্রির চেয়ে মহাসড়কে ঢেলে দেওয়াও এখন তাদের কাছে সমান কথা।

​মানববন্ধনে পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ দেশের প্রোটিনের চাহিদা সচল রাখতে এবং প্রান্তিক খামারিদের রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। খামারিদের পক্ষ থেকে প্রধানত ৩টি দাবি জানানো হয়,​ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে ডিম ও মুরগির সরকারি পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।সিন্ডিকেট দমন: পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।ঋণসহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে বা সুদমুক্ত প্রণোদনা ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

​খামারিদের হুঁশিয়ারি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রোটিনের প্রধান উৎস এই পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসন এখনই কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগ:

ধামরাইয়ে মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের ক্ষোভ,পোল্ট্রি শিল্প বাঁচানোর আকুতি

আপডেট সময়: ০৩:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

টাকা ধার করে খামার চালাইছি, এহন ডিম বেইচা ফিডের দামও ওঠে না! আমরা বাঁচুম কেমনে?”—চোখে ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ধামরাইয়ের এক প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি।​পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) ও ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে ডিম-মুরগির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে এবার ভিন্নধর্মী ও কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকার ধামরাইয়ের স্থানীয় পোল্ট্রি খামারিরা।

আজ ২৯শে জুন (সোমবার) সকালে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার কচমচে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিম ভেঙে এবং মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার গল্প শোনালেন তারা।

ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতি’র ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি অংশ নেন।

​মানববন্ধনে ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বর্তমান সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন,বাজারে পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের দাম এখন আকাশচুম্বী। উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, পাইকারি বাজারে ডিম ও মুরগির দাম তার অর্ধেকও মিলছে না। ফলে ধামরাইয়ের শত শত খামারি দিনের পর দিন লোকসান গুনছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং অনেকেই খামার চিরতরে বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুজন মাহমুদ। তিনি খামারিদের এই দুর্দশাকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ উল্লেখ করে বলেন, “এখানকার খামারিরা গত ছয় মাস ধরে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে, ঋণগ্রস্ত হয়ে কোনোমতে খামারগুলো টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এখন আর তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব না।”

​বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ খামারিরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, লোকসান দিয়ে বাজারে ডিম বিক্রির চেয়ে মহাসড়কে ঢেলে দেওয়াও এখন তাদের কাছে সমান কথা।

​মানববন্ধনে পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ দেশের প্রোটিনের চাহিদা সচল রাখতে এবং প্রান্তিক খামারিদের রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। খামারিদের পক্ষ থেকে প্রধানত ৩টি দাবি জানানো হয়,​ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে ডিম ও মুরগির সরকারি পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।সিন্ডিকেট দমন: পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।ঋণসহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে বা সুদমুক্ত প্রণোদনা ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

​খামারিদের হুঁশিয়ারি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রোটিনের প্রধান উৎস এই পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসন এখনই কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।