
স্ত্রীর ওপর অভিমান করে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে একটি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) টাওয়ারের চূড়ায় চড়ে বসেছিলেন আসাদুজ্জামান জামাল (২২) নামে এক যুবক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ভাটারখোলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনতার প্রায় পৌনে ৩ ঘণ্টার যৌথ ও শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টায় তাকে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো ওই যুবক আসাদুজ্জামান জামাল ভাটারখোলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দাবির উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে কোনো একটি পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রীর সাথে জামালের পারিবারিক কলহ ও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর ওপর তীব্র অভিমান করে সন্ধ্যার দিকে তিনি বাড়ির পাশে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের একটি বিশাল হাইভোল্টেজ টাওয়ারে বেয়ে একদম চূড়ায় উঠে যান।
সন্ধ্যা নামার মুখে একজন মানুষকে বৈদ্যুতিক টাওয়ারের ওপরে দেখতে পেয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ঢল নামে। স্থানীয়রা জামালকে বুঝিয়ে নিচে নেমে আসার আকুতি জানালেও তিনি তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি এবং ওপর থেকেই আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় ওই লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় টাওয়ারে উঠে জামালকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ পৌনে ৩ ঘণ্টার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জামালকে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। লাইনটি হাইভোল্টেজের হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকি ছিল, তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। যুবক জামাল বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই নাটকীয় ঘটনার অবসান ঘটায় জামালের পরিবারসহ পুরো এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আশরাফুল আলম 












