ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবহেলা শেষে খালের জাগরণ, হাসবে কৃষক, বাঁচবে গ্রামীণ জীবন।

“গত ১৭ বছরের অবহেলা আর বেদখলে যে খালগুলো মরে গিয়েছিল, সেগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরছে। আর এর মাধ্যমেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোয়ার আসবে, মানুষের মুখে হাসি ফিরবে।”— আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

​বুধবার বিকেলে ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানা (স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড) পরিদর্শন শেষে চলমান খাল খনন কাজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-২০) তমিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

​নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে সরকার আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৪-৫টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে।​ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য,মোট ৭ হাজার কিলোমিটার।​চলতি বছরের টার্গেট,১,৫০০ কিলোমিটার।​

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন,এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও সরকারের আন্তরিকতায় কোনো কমতি নেই।

​বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন সেচের সুবিধা পাবেন।পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে নদী শুকিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বৃষ্টির পানি (ভূ-উপরিস্থ পানি) সংরক্ষণ করা হবে।খালের দুপাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষদের এই বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সম্পৃক্ত করে আয়বর্ধক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দূরদর্শী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছিল, এমনকি বিদেশে চাল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

দুর্নীতি ও শ্রমিক মজুরি নিয়ে মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা,দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’পুরো কার্যক্রম সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

​ খাল খননে ২৫% শ্রমিক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও কেন ‘ভেকু’ (ড্রেজার) ব্যবহার করা হচ্ছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,মূল গভীর খনন বা ড্রেজিংয়ের কাজটি যান্ত্রিক উপায়ে (ভেকু) করা হচ্ছে। তবে পাড় বাঁধাই (স্লোপিং), বৃক্ষরোপণসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো মানুষই করবে।

​বর্তমানে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিকে বাজারদরের তুলনায় কম স্বীকার করে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন,আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আগামী অর্থবছরেই এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে যেন সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে কাজে যোগ দিতে পারেন।

 

ট্যাগ:

অবহেলা শেষে খালের জাগরণ, হাসবে কৃষক, বাঁচবে গ্রামীণ জীবন।

আপডেট সময়: ০৯:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

“গত ১৭ বছরের অবহেলা আর বেদখলে যে খালগুলো মরে গিয়েছিল, সেগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরছে। আর এর মাধ্যমেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোয়ার আসবে, মানুষের মুখে হাসি ফিরবে।”— আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

​বুধবার বিকেলে ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানা (স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড) পরিদর্শন শেষে চলমান খাল খনন কাজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-২০) তমিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

​নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে সরকার আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৪-৫টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে।​ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য,মোট ৭ হাজার কিলোমিটার।​চলতি বছরের টার্গেট,১,৫০০ কিলোমিটার।​

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন,এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও সরকারের আন্তরিকতায় কোনো কমতি নেই।

​বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন সেচের সুবিধা পাবেন।পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে নদী শুকিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বৃষ্টির পানি (ভূ-উপরিস্থ পানি) সংরক্ষণ করা হবে।খালের দুপাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষদের এই বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সম্পৃক্ত করে আয়বর্ধক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দূরদর্শী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছিল, এমনকি বিদেশে চাল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

দুর্নীতি ও শ্রমিক মজুরি নিয়ে মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা,দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’পুরো কার্যক্রম সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

​ খাল খননে ২৫% শ্রমিক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও কেন ‘ভেকু’ (ড্রেজার) ব্যবহার করা হচ্ছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,মূল গভীর খনন বা ড্রেজিংয়ের কাজটি যান্ত্রিক উপায়ে (ভেকু) করা হচ্ছে। তবে পাড় বাঁধাই (স্লোপিং), বৃক্ষরোপণসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো মানুষই করবে।

​বর্তমানে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিকে বাজারদরের তুলনায় কম স্বীকার করে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন,আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আগামী অর্থবছরেই এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে যেন সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে কাজে যোগ দিতে পারেন।