ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে বাস-কাভার ভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩

  • আশরাফুল আলম
  • আপডেট সময়: ১০:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 85

ঢাকার ধামরাইয়ে একেএইচ ইকো অ্যাপারেলস লিমিটেডের একটি শ্রমিকবাহী বাসের সঙ্গে কাভার ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক কাভার ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ব্যস্ততম এই উপজেলার শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অত্যন্ত মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত কাভার ভ্যানচালক আবু বক্কর সিদ্দিক নেত্রকোনা সদর উপজেলার বদনী গ্রামের নুর আলমের সুযোগ্য সন্তান। তার আকস্মিক এই প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে একেএইচ ইকো পোশাক কারখানার শ্রমিকবাহী বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঢাকা অভিমুখে কালামপুরের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা আরিচাগামী একটি মালবাহী কাভার ভ্যানের সঙ্গে বাসটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে কাভার ভ্যানের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আবু বক্কর সিদ্দিক মারা যান।

​স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, এই কারখানার শ্রমিকবাহী বাসগুলো প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম ভেঙে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়াভাবে চলাচল করে থাকে। যার ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, শ্রমিক পরিবহনের এই বাসগুলোর বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের যথাযথ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা নজরদারি নেওয়া হচ্ছে না?

​দুর্ঘটনার পর পরই একেএইচ ইকোর যানবাহনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বা সরাসরি ব্যাখ্যা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে অবহিত করেছেন। তবে কারখানার বাসের অতিরিক্ত গতি, চালকের ভূমিকা কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়বদ্ধতা রয়েছে কি না সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। উল্টো তিনি সংবাদকর্মীকে বিষয়টি নিজে তদন্ত করে দেখার পরামর্শ দেন।

​এ বিষয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কেবল নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করেছে। আহতদের স্থানীয় লোকজন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন, তবে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আহতদের সঠিক ও বিস্তারিত কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য নেই।

​অন্যদিকে গোলড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মাতুব্বার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ঘটেছে, সেই সঙ্গে এতে একেএইচ ইকোর গাড়ির চালক বা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়দায়িত্ব রয়েছে কি না তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কোনো ধরনের আইনভঙ্গের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ:

ধামরাইয়ে বাস-কাভার ভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩

আপডেট সময়: ১০:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে একেএইচ ইকো অ্যাপারেলস লিমিটেডের একটি শ্রমিকবাহী বাসের সঙ্গে কাভার ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক কাভার ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ব্যস্ততম এই উপজেলার শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অত্যন্ত মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত কাভার ভ্যানচালক আবু বক্কর সিদ্দিক নেত্রকোনা সদর উপজেলার বদনী গ্রামের নুর আলমের সুযোগ্য সন্তান। তার আকস্মিক এই প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে একেএইচ ইকো পোশাক কারখানার শ্রমিকবাহী বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঢাকা অভিমুখে কালামপুরের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা আরিচাগামী একটি মালবাহী কাভার ভ্যানের সঙ্গে বাসটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে কাভার ভ্যানের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আবু বক্কর সিদ্দিক মারা যান।

​স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, এই কারখানার শ্রমিকবাহী বাসগুলো প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম ভেঙে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়াভাবে চলাচল করে থাকে। যার ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, শ্রমিক পরিবহনের এই বাসগুলোর বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের যথাযথ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা নজরদারি নেওয়া হচ্ছে না?

​দুর্ঘটনার পর পরই একেএইচ ইকোর যানবাহনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বা সরাসরি ব্যাখ্যা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে অবহিত করেছেন। তবে কারখানার বাসের অতিরিক্ত গতি, চালকের ভূমিকা কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়বদ্ধতা রয়েছে কি না সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। উল্টো তিনি সংবাদকর্মীকে বিষয়টি নিজে তদন্ত করে দেখার পরামর্শ দেন।

​এ বিষয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কেবল নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করেছে। আহতদের স্থানীয় লোকজন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন, তবে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আহতদের সঠিক ও বিস্তারিত কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য নেই।

​অন্যদিকে গোলড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মাতুব্বার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ঘটেছে, সেই সঙ্গে এতে একেএইচ ইকোর গাড়ির চালক বা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়দায়িত্ব রয়েছে কি না তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কোনো ধরনের আইনভঙ্গের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।