ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সরকারি শিশু পরিবারের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারের ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ২৭ সপ্তাহের বেশি সময়ের অন্তঃসত্ত্বা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার দায়ে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

গত বুধবার (৮ জুলাই) অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

গ্রেফতারকৃত ওয়াহিদ শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে। তিনি শহরের টেপাখোলা এলাকায় একটি দর্জির দোকান চালাতেন।

 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে সরকারি শিশু পরিবারে থেকে পড়াশোনা ও স্কুলে যাতায়াত করতো। গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে দর্জির দোকানের মালিক ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অধিক সময় ধরে গর্ভবতী।

 

এদিকে, এই নজিরবিহীন দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত ৮ জুলাই জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন— সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার, আয়া শামসুন্নাহার আক্তার এবং তানিয়া তাজরীণ।

 

ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভুক্তভোগী কিশোরীকে বর্তমানে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ‘নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্রে’ রাখা হয়েছে।

 

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গত ৬ জুলাই থানায় মামলা দায়েরের পর ৮ জুলাই প্রধান অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ট্যাগ:

ফরিদপুরে সরকারি শিশু পরিবারের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১

আপডেট সময়: ১১:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারের ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ২৭ সপ্তাহের বেশি সময়ের অন্তঃসত্ত্বা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার দায়ে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

গত বুধবার (৮ জুলাই) অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

গ্রেফতারকৃত ওয়াহিদ শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে। তিনি শহরের টেপাখোলা এলাকায় একটি দর্জির দোকান চালাতেন।

 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে সরকারি শিশু পরিবারে থেকে পড়াশোনা ও স্কুলে যাতায়াত করতো। গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে দর্জির দোকানের মালিক ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অধিক সময় ধরে গর্ভবতী।

 

এদিকে, এই নজিরবিহীন দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত ৮ জুলাই জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন— সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার, আয়া শামসুন্নাহার আক্তার এবং তানিয়া তাজরীণ।

 

ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভুক্তভোগী কিশোরীকে বর্তমানে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ‘নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্রে’ রাখা হয়েছে।

 

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গত ৬ জুলাই থানায় মামলা দায়েরের পর ৮ জুলাই প্রধান অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”