ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন অলি-গলিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুরের কারণে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, নারী শ্রমিক, বয়স্ক ব্যক্তি ও পথচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ভীতি। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, কারখানার আশপাশ, ময়লার স্তূপ ও সরু গলিতে অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরাফেরা করে। খাবারের সন্ধানে কুকুরগুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করে এবং অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া করে।

মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের পেছনেও ছুটে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সাভার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় কুকুরের দল একসঙ্গে ডাকাডাকি করায় শিশু ও বয়স্কদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আবার ভোরে ও রাতে কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নারী শ্রমিকদের অনেকেই কুকুরের ভয়ে দলবেঁধে চলাচল করেন।

সাভারের গেন্ডা এলাকায় বসবাসকারী এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, প্রতিদিন ভোরে কারখানায় যাওয়ার সময় গলির মধ্যে কয়েকটি কুকুর দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় কাছে গেলেই তেড়ে আসে। একা হাঁটতে ভয় লাগে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানাই।

আরেক বাসিন্দা বলেন, শিশুরা বিকেলে খেলতে বের হলে আমরা তাদের নিয়ে চিন্তায় থাকি। কুকুরগুলো কখন কী করে বসে, বলা যায় না। কয়েকবার শিশুদের পেছনে ধাওয়া করার ঘটনাও দেখেছি।

স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাউকে না কাউকে যেতে হয়। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার কারণে কুকুরের আনাগোনা বাড়ছে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলা এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করাকেও তারা সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুকুরের উৎপাত কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে মানুষের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি প্রাণীগুলোর প্রতিও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ চান সাভারবাসী।

ট্যাগ:

আপডেট সময়: ১২:১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন অলি-গলিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুরের কারণে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, নারী শ্রমিক, বয়স্ক ব্যক্তি ও পথচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ভীতি। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, কারখানার আশপাশ, ময়লার স্তূপ ও সরু গলিতে অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরাফেরা করে। খাবারের সন্ধানে কুকুরগুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করে এবং অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া করে।

মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের পেছনেও ছুটে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সাভার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় কুকুরের দল একসঙ্গে ডাকাডাকি করায় শিশু ও বয়স্কদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আবার ভোরে ও রাতে কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নারী শ্রমিকদের অনেকেই কুকুরের ভয়ে দলবেঁধে চলাচল করেন।

সাভারের গেন্ডা এলাকায় বসবাসকারী এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, প্রতিদিন ভোরে কারখানায় যাওয়ার সময় গলির মধ্যে কয়েকটি কুকুর দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় কাছে গেলেই তেড়ে আসে। একা হাঁটতে ভয় লাগে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানাই।

আরেক বাসিন্দা বলেন, শিশুরা বিকেলে খেলতে বের হলে আমরা তাদের নিয়ে চিন্তায় থাকি। কুকুরগুলো কখন কী করে বসে, বলা যায় না। কয়েকবার শিশুদের পেছনে ধাওয়া করার ঘটনাও দেখেছি।

স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাউকে না কাউকে যেতে হয়। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার কারণে কুকুরের আনাগোনা বাড়ছে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলা এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করাকেও তারা সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুকুরের উৎপাত কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে মানুষের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি প্রাণীগুলোর প্রতিও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ চান সাভারবাসী।