
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে ঢাকার ধামরাই পৌরসভাজুড়ে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথম দিনেই এক হাজার দেশীয় ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেছে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।
শনিবার (৪ জুলাই) দিনব্যাপী ধামরাই পৌরসভার কালিয়াগাড় ও পাঠানটোলাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, বরং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গাছের প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখা পরিবেশবান্ধব তালগাছ রোপণে জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন নেতাকর্মীরা।
ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভির নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নাজমুল হাসান অভি বলেন,”মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেটিকে বেগবান করতেই আমাদের এই সবুজায়ন উদ্যোগ। ধামরাইকে একটি আদর্শ সবুজ ও পরিবেশবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তবে আমরা শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না; প্রতিটি চারা যেন সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, সেজন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে।”
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে ধামরাইয়ের পর ঢাকা জেলার প্রতিটি উপজেলা ও এলাকায় এই পরিবেশবান্ধব সবুজায়ন অভিযান ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— পৌর বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা আক্তার ডলি, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ মিয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন রিজভীসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ উৎসুক জনতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই ব্যতিক্রমী এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে চারা রোপণের পর তা নিয়মিত দেখভালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা পরিবেশের সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
আশরাফুল আলম 













