ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় শিক্ষকের অবহেলায় পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ

আশুলিয়ায় এক শিক্ষকের অবহেলায় পানিতে ডুবে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামের ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ীর উত্তর পাশের বংশাই (গাজীখাল) নদীতে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এর আগে শিক্ষকের সাথে মোট ৯জন শিক্ষার্থী গোসলে নামে ওই নদীতে।

নিহত রাতুল হাসান রিফাত জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে তার বাবা-মায়ের সাথে আশুলিয়ার কোনাপাড়া আবুল হোসেনের ভাড়াবাড়িতে থেকে স্থানীয় আল-ক্বলম প্রি-পারেটরী স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ৩টা কি ৪টার দিকে শিক্ষক ইমরান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত সহ ৯জন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক গাজীরখালে গোসল করতে নিয়ে আসে। গোসলের একফাঁকে রাহাত সহ আরো দুইজন পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে সকলেই পানি থেকে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় রাহাত। পরে ওই শিক্ষার্থীরা সহ স্থানীয় আমছু ও মাসুদ রানা সহ আরো অনেকে প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা করে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আনিসুর রহমান বলেন, আল ক্বলম স্কুলের শিক্ষককে বার বার সতর্ক করা হয় যে এখানে পানির স্রোত বেশি নাইমেন না।

এরপরেও শিক্ষক ইমরান ৯জন বাচ্চা নিয়ে সে নদীতে নামে। আধাঘন্টা পরেই হঠাৎ ওই শিক্ষক সহ আরো দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে দুইজন উঠে আসতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজাখোঁজি করে প্রায় এক ঘন্টা পরে তার লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয় অবিভাবকরা জানান, আল ক্বলম স্কুল থেকে কয়েকদিন পর পরই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নাম করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আজকে এমনি করে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। আর একজন মায়ের বুক খালি হল। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবী জানান।

এব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলটির কর্ণধার খোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ইমরান পলাতক আছে বলে জানান এলাকাবাসী।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েছি। লাশ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগ:

আশুলিয়ায় শিক্ষকের অবহেলায় পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময়: ১০:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

আশুলিয়ায় এক শিক্ষকের অবহেলায় পানিতে ডুবে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামের ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ীর উত্তর পাশের বংশাই (গাজীখাল) নদীতে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এর আগে শিক্ষকের সাথে মোট ৯জন শিক্ষার্থী গোসলে নামে ওই নদীতে।

নিহত রাতুল হাসান রিফাত জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে তার বাবা-মায়ের সাথে আশুলিয়ার কোনাপাড়া আবুল হোসেনের ভাড়াবাড়িতে থেকে স্থানীয় আল-ক্বলম প্রি-পারেটরী স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ৩টা কি ৪টার দিকে শিক্ষক ইমরান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত সহ ৯জন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক গাজীরখালে গোসল করতে নিয়ে আসে। গোসলের একফাঁকে রাহাত সহ আরো দুইজন পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে সকলেই পানি থেকে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় রাহাত। পরে ওই শিক্ষার্থীরা সহ স্থানীয় আমছু ও মাসুদ রানা সহ আরো অনেকে প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা করে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আনিসুর রহমান বলেন, আল ক্বলম স্কুলের শিক্ষককে বার বার সতর্ক করা হয় যে এখানে পানির স্রোত বেশি নাইমেন না।

এরপরেও শিক্ষক ইমরান ৯জন বাচ্চা নিয়ে সে নদীতে নামে। আধাঘন্টা পরেই হঠাৎ ওই শিক্ষক সহ আরো দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে দুইজন উঠে আসতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজাখোঁজি করে প্রায় এক ঘন্টা পরে তার লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয় অবিভাবকরা জানান, আল ক্বলম স্কুল থেকে কয়েকদিন পর পরই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নাম করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আজকে এমনি করে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। আর একজন মায়ের বুক খালি হল। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবী জানান।

এব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলটির কর্ণধার খোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ইমরান পলাতক আছে বলে জানান এলাকাবাসী।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েছি। লাশ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।