
তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবারের এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্র ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ভূমিকম্প আঘাত হানায় হিমালয় অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। সাধারণত অগভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়ায় এর কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। তবে ওই ঘটনাতেও বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে নতুন ভূমিকম্পের সময়ও নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা আগের দুর্যোগের প্রভাব সামলাচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে একই দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুই দেশের তথ্য একত্র করলে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৮৪৫ জন। তবে নেপালে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ও পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় দুর্গম হয়ে পড়েছে অনেক অঞ্চল। দুর্যোগের পর নেপালে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান ইতোমধ্যে ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শত শত কর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার দুই নেপালি নাগরিককে উদ্ধারের পর শনিবার একজন চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এতে দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা অন্যদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তিব্বত ও নেপাল সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও হ্রদ থেকে আকস্মিক পানি নেমে আসা, ভূমিধস এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হিমালয় অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের মতো একাধিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটায় দুর্গম এলাকাগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 












