ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে পরকীয়া : পিবিআই

পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধে জেরে আশুলিয়ার জামগড়ায় সংঘটিত হয়েছে আলোচিত ‘ট্রিপল মার্ডার’। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত স্বামী আলমগীর কবির নিজেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁদের বাসায় ডেকে এনেছিলেন। সেখানে কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করা হয়। এসময় নাজমার ৭ মাসের ভূমিষ্ট নবজাতকের মৃত্যু হয়। সম্পূর্ণ ক্লুলেস এই নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইএর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় হত্যার আলামত উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মনির কে গ্রেফতার করে পিবিআই।

জানা যায়, নাজমা আক্তারের সাথে পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর গার্মেন্টসকর্মী মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৯) ও তাঁর স্বামী পান-সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির (৪৫) বাসায় প্রবেশ করেন। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের আগে কোনো এক সময় আলমগীর মনির কে ডেকে তার বাসায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাঁদের হত্যা করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হওয়া নবজাতকসহ তিনজনেরই নির্মম মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীরই ওই অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক মনির কে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উল্টো তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী জানান, আমরা ঘটনার পর পর ছায়া তদন্ত শুরু করি। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৯) ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবির (৪৫)। নাজমা খাতুন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন ও আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির ২য় তলার তালাবন্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পুলিশ তালা ভেঙে গলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন মোছাঃ শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করলে এক পর্যায়ে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে তারা।

ট্যাগ:

আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে পরকীয়া : পিবিআই

আপডেট সময়: ০৫:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধে জেরে আশুলিয়ার জামগড়ায় সংঘটিত হয়েছে আলোচিত ‘ট্রিপল মার্ডার’। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত স্বামী আলমগীর কবির নিজেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁদের বাসায় ডেকে এনেছিলেন। সেখানে কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করা হয়। এসময় নাজমার ৭ মাসের ভূমিষ্ট নবজাতকের মৃত্যু হয়। সম্পূর্ণ ক্লুলেস এই নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইএর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় হত্যার আলামত উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মনির কে গ্রেফতার করে পিবিআই।

জানা যায়, নাজমা আক্তারের সাথে পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর গার্মেন্টসকর্মী মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৯) ও তাঁর স্বামী পান-সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির (৪৫) বাসায় প্রবেশ করেন। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের আগে কোনো এক সময় আলমগীর মনির কে ডেকে তার বাসায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাঁদের হত্যা করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হওয়া নবজাতকসহ তিনজনেরই নির্মম মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীরই ওই অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক মনির কে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উল্টো তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী জানান, আমরা ঘটনার পর পর ছায়া তদন্ত শুরু করি। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৯) ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবির (৪৫)। নাজমা খাতুন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন ও আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির ২য় তলার তালাবন্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পুলিশ তালা ভেঙে গলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন মোছাঃ শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করলে এক পর্যায়ে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে তারা।