ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে শিল্প কারখানার দূষণ রোধ ও শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণে সংসদ সদস্যদের সাথে মালিকদের মতবিনিময় সভা

  • আশরাফুল আলম
  • আপডেট সময়: ০৭:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

গাজীখালী নদীর পানি আজ রূপ নিয়েছে এক বিষাক্ত প্রবহমান যন্ত্রণায়, যার তীরবর্তী ধামরাইয়ের জনপদবাসীর নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে পচা দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে। শিল্পায়নের এই অগ্রযাত্রায় পরিবেশের যে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ধামরাই উপজেলার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায়। কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষা, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিশুশ্রমের মতো অভিশাপ চিরতরে নিষিদ্ধ করার প্রত্যয়ে স্থানীয় শিল্প-কারখানার মালিক এবং নীতিনির্ধারকরা এক টেবিলে বসেছিলেন এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে।

​সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। এছাড়া এলাকার ৫২টি শিল্প-কারখানার মালিক, তাদের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

​আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে এলাকার এক করুণ বাস্তবচিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ধামরাইয়ের বুক চিরে বয়ে চলা গাজীখালী নদীতে কিছু অসাধু ও নিয়মবহির্ভূত শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে। ইটিপি বা বর্জ্য শোধনাগার ব্যবহার না করার ফলে নদীর প্রাণ আজ বিপন্ন; মাছের অস্তিত্ব তো দূরূহের বিষয়, এই পানি স্পর্শ করারও উপায় নেই। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধ আর মশার রাজত্বে স্থবির হয়ে পড়েছে।

​তবে এবারের চিত্রটি কেবল অভিযোগের বৃত্তে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল কঠোর প্রশাসনিক বার্তা। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এলাকার ৫২টি কারখানার প্রত্যেকটিকে বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্যের দুঃসাহস দেখালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ধামরাইয়ের মাটি, নদী ও মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এই উদ্যোগ এখন কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

ট্যাগ:

ধামরাইয়ে শিল্প কারখানার দূষণ রোধ ও শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণে সংসদ সদস্যদের সাথে মালিকদের মতবিনিময় সভা

আপডেট সময়: ০৭:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীখালী নদীর পানি আজ রূপ নিয়েছে এক বিষাক্ত প্রবহমান যন্ত্রণায়, যার তীরবর্তী ধামরাইয়ের জনপদবাসীর নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে পচা দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে। শিল্পায়নের এই অগ্রযাত্রায় পরিবেশের যে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ধামরাই উপজেলার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায়। কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষা, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিশুশ্রমের মতো অভিশাপ চিরতরে নিষিদ্ধ করার প্রত্যয়ে স্থানীয় শিল্প-কারখানার মালিক এবং নীতিনির্ধারকরা এক টেবিলে বসেছিলেন এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে।

​সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। এছাড়া এলাকার ৫২টি শিল্প-কারখানার মালিক, তাদের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

​আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে এলাকার এক করুণ বাস্তবচিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ধামরাইয়ের বুক চিরে বয়ে চলা গাজীখালী নদীতে কিছু অসাধু ও নিয়মবহির্ভূত শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে। ইটিপি বা বর্জ্য শোধনাগার ব্যবহার না করার ফলে নদীর প্রাণ আজ বিপন্ন; মাছের অস্তিত্ব তো দূরূহের বিষয়, এই পানি স্পর্শ করারও উপায় নেই। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধ আর মশার রাজত্বে স্থবির হয়ে পড়েছে।

​তবে এবারের চিত্রটি কেবল অভিযোগের বৃত্তে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল কঠোর প্রশাসনিক বার্তা। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এলাকার ৫২টি কারখানার প্রত্যেকটিকে বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্যের দুঃসাহস দেখালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ধামরাইয়ের মাটি, নদী ও মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এই উদ্যোগ এখন কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।