ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ার জিরানীতে ভেঙ্গে গেছে ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

 আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজার এলাকার ফুটওভার ব্রিজটির সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পোশাক শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার মানুষ ফুটওভার ব্রিজ পাড় হচ্ছেন। ঘটতে পারে যেকোন সময় দূর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের। তবে দ্রুত এই ফুটওভার ব্রিজটি মেরামতের দাবী তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের উপর জিরানী বাজার এলাকায় দুটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। দুটি ব্রিজ থাকলেও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিকেএসপি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনের ব্রিজটি। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের উত্তর পাশের লোহার সিঁড়িগুলোতে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা পূর্ব পাশের একটি সিঁড়ি এবং পশ্চিম পাশের একটি সিঁড়ি বাঁশ দিয়ে বেঁধে রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া “সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ, সতর্কভাবে চলাচল করুন” লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। তাও আবার স্থানীয় বাজারের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
এদিকে, পূর্ব এবং পশ্চিম পাশের উত্তর দিক থেকে উঠা ও নামার সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একপাশ দিয়েই পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ পাড় হচ্ছেন। এতে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সিঁড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ তা মেরামত করে দিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেগুলো আবার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নতুন করে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মোশতাক আহমেদ নামের এক পথচারী জানান, প্রতিদিন তিনি এই ব্রিজটি ব্যবহার করে কর্মক্ষেত্রে যান। কিন্তু ব্রিজের এই অবস্থার কারণে ঝুঁকি ঞ্জ্যে বাধ্য হয়েই পাড়াপাড় হচ্ছেন। আবার বৃষ্টির দিনে উঠা আরো দুস্কর হয়ে পড়ে। কারণ ওই সময় সিড়িগুলা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙ্গাচুড়া সিঁড়ির কারণে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায় কয়েকগুন।
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ব্রিজ ব্যবহার করতে এখন তাদের খুব ভয় হয়। অন্য কোথাও দিয়ে আসাও যায় না। তাই ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই এই ব্রিজ ব্যভার করে তারা। বড় ধরণের দূর্ঘটনার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই ফুটওভার ব্রিজটি সংস্কার কিংবা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণের দাবী জানায় তারা।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শনে লোক পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিঁড়িসহ ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
ট্যাগ:

আশুলিয়ার জিরানীতে ভেঙ্গে গেছে ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

আপডেট সময়: ০১:২১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
 আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজার এলাকার ফুটওভার ব্রিজটির সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পোশাক শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার মানুষ ফুটওভার ব্রিজ পাড় হচ্ছেন। ঘটতে পারে যেকোন সময় দূর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের। তবে দ্রুত এই ফুটওভার ব্রিজটি মেরামতের দাবী তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের উপর জিরানী বাজার এলাকায় দুটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। দুটি ব্রিজ থাকলেও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিকেএসপি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনের ব্রিজটি। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের উত্তর পাশের লোহার সিঁড়িগুলোতে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা পূর্ব পাশের একটি সিঁড়ি এবং পশ্চিম পাশের একটি সিঁড়ি বাঁশ দিয়ে বেঁধে রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া “সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ, সতর্কভাবে চলাচল করুন” লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। তাও আবার স্থানীয় বাজারের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
এদিকে, পূর্ব এবং পশ্চিম পাশের উত্তর দিক থেকে উঠা ও নামার সিঁড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একপাশ দিয়েই পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ পাড় হচ্ছেন। এতে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সিঁড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ তা মেরামত করে দিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেগুলো আবার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নতুন করে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মোশতাক আহমেদ নামের এক পথচারী জানান, প্রতিদিন তিনি এই ব্রিজটি ব্যবহার করে কর্মক্ষেত্রে যান। কিন্তু ব্রিজের এই অবস্থার কারণে ঝুঁকি ঞ্জ্যে বাধ্য হয়েই পাড়াপাড় হচ্ছেন। আবার বৃষ্টির দিনে উঠা আরো দুস্কর হয়ে পড়ে। কারণ ওই সময় সিড়িগুলা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙ্গাচুড়া সিঁড়ির কারণে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায় কয়েকগুন।
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ব্রিজ ব্যবহার করতে এখন তাদের খুব ভয় হয়। অন্য কোথাও দিয়ে আসাও যায় না। তাই ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই এই ব্রিজ ব্যভার করে তারা। বড় ধরণের দূর্ঘটনার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই ফুটওভার ব্রিজটি সংস্কার কিংবা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণের দাবী জানায় তারা।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শনে লোক পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিঁড়িসহ ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।