
বড় হয়ে দেশের সেবা করবে, পরিবারের হাল ধরবে—এমনই স্বপ্ন নিয়ে এসএসসির প্রস্তুতি নিয়েছিল মো. রায়হান হোসেন। কিন্তু ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের কৈলাস চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত অবহেলায় সেই স্বপ্নে এখন অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। পাওনা পরিশোধ করার পরও প্রবেশপত্র (Admit Card) আটকে রাখায় বাংলা ও ইংরেজিসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এই শিক্ষার্থী।
রায়হানের অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সাথে সে বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র নিতে গেলে তাকে জানানো হয় তার প্রবেশপত্র আসেনি। সরল বিশ্বাসে সে বাড়ি ফিরে যায়। অথচ পরীক্ষার হলে তার জন্য নির্ধারিত আসনটি প্রতিদিন খালি পড়ে ছিল। দুই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সহপাঠীদের কাছে থেকে নিজের আসনের কথা জানতে পেরে সে পুনরায় স্কুলে যায় এবং অবাক হয়ে দেখে তার প্রবেশপত্রটি বিদ্যালয়ের অফিসেই পড়ে আছে।
”আমার বন্ধুরা যখন পরীক্ষা দিচ্ছিল, আমি তখন বাড়িতে কাঁদছিলাম। স্কুল থেকে বলা হয়েছিল কার্ড আসেনি, অথচ কার্ডটা স্কুলেই ছিল।” — ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র সরকার ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মেনে নিয়েছেন এবং জানান যে দাপ্তরিক কাজগুলো মূলত প্রধান শিক্ষক ও অন্য একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক দেখাশোনা করেন।
রায়হানের মা নাজমা বেগম ইতিমধ্যে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যাতে রায়হানের শিক্ষা জীবন রক্ষায় দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এই ঘটনাটি স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রায়হান তার বাকি পরীক্ষাগুলো দিয়ে বছরটি বাঁচাতে পারে কি না।
আশরাফুল আলম : 







