
সোনার ধানে গোলা ভরার স্বপ্ন ছিল প্রান্তিক চাষিদের। কিন্তু সেই সোনালী স্বপ্ন এখন তামাটে রঙের ছাই। ঢাকার ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপে পুড়ে গেছে প্রায় ২৫ একর জমির বোরো ধান। শয়ে শয়ে কৃষকের সারা বছরের অন্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী, বাউখন্ড, চালা, নারায়ণপুর ও ভবনহাটি—এই পাঁচটি গ্রামের মাঠজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি আইন অমান্য করে তিন ফসলি জমির মাঝখানে গড়ে ওঠা ইটভাটা এই ধ্বংসযজ্ঞের মূলে।
যাঁরা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফসল ফলিয়েছেন, আজ তাঁদের শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। দুই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জবানিতে উঠে এসেছে চরম দুর্দশার চিত্র,ন
৭০ শতাংশ জমিতে অনেক কষ্ট করে ধান লাগিয়েছিলাম। এই ধান দিয়েই আমাদের সারা বছর চলার কথা। এখন আমরা খাবো কী?” > — আবদুল মান্নান মিয়া, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
”ভ্যান চালিয়ে জমানো টাকা দিয়ে চাষাবাদ করেছি। অন্যের সাহায্য না নিয়ে নিজেই খেটেছি। আজ এসে দেখি সব শেষ! এই ধান বিক্রি করেই তো ছেলেমেয়ের পড়ালেখা করাতাম।” > — দেলোয়ার হোসেন, ভ্যানচালক ও কৃষক।
ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থবির হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিকভাবে ইটভাটার তাপদাহকেই এই ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
ধামরাইয়ে ইটভাটার কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। প্রতি বছর তদন্ত হয়, আশ্বাসের বাণী শোনানো হয়, কিন্তু কৃষকের ভাগ্য বদলায় না। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,কৃষিজমি ও লোকালয়ের পাশে থাকা ইটভাটাগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভাটা বন্ধ রাখা।
ইটের বদলে কি কৃষকের স্বপ্ন পুড়বে? প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর কার্যকর আইনি পদক্ষেপই পারে ধামরাইয়ের এই সবুজ মাঠগুলোকে রক্ষা করতে। অন্যথায়, দেলোয়ার হোসেনের মতো হাজারো মানুষের পরিশ্রম কেবল ধোঁয়া হয়েই উড়ে যাবে।
আশরাফুল আলম: 







