
সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বেদে পল্লীগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ব্যবসা—এমন অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দিনের আলোতে এবং রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদ কেনাবেচা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফলে মাদকাসক্তি ও অপরাধ প্রবণতা বেড়ে সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার কয়েকটি বেদে পল্লী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এসব পল্লীতে বহিরাগত ক্রেতাদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয় এতটাই প্রকাশ্যে হচ্ছে যে আশপাশের বাসিন্দারাও প্রায়ই এর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসার কারণে কিশোর ও তরুণরা দ্রুত মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতে অনেকেই চুরি, ছিনতাই ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই বেদে পল্লীতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। সবাই জানে এখানে মাদক পাওয়া যায়, কিন্তু প্রশাসন যেন কিছুই দেখছে না।” আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, সন্ধ্যার পর এলাকার পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাদকসেবীদের উৎপাত ও বিশৃঙ্খল আচরণে দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী কোনো অভিযান বা নজরদারি জোরদার করা হয়নি। মাঝে মধ্যে দু-একটি অভিযান হলেও তা লোক দেখানো বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযানের কিছুদিন পর আবারও আগের মতো প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা শুরু হয়ে যায়।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বেদে পল্লীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। না হলে সাভারের বেদে পল্লীকে ঘিরে মাদক ব্যবসা পুরো এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
রাউফুর রহমান পরাগ 










