ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনন্দের বদলে দুর্ভোগের নাম কক্সবাজার, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

সমুদ্রের ঢেউ, দিগন্তজোড়া বালুকাবেলা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। পরিবার-পরিজন নিয়ে অবকাশ যাপন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর প্রত্যাশা থাকলেও নানা অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তিতে অনেকের কাছে সেই আনন্দই হয়ে উঠছে দুর্ভোগের কারণ। আবাসন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, খাবারের দাম নিয়ে অসন্তোষ, যানজট এবং পর্যটন এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, ছুটির দিন ও পর্যটকের চাপ বাড়লে অনেক হোটেলে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হোটেল না পেয়ে কিছু পর্যটককে বিকল্প আবাসনের খোঁজে দীর্ঘ সময় ঘুরতে হয়। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে ভ্রমণে আসা পরিবারগুলোকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক শাহরিয়ার আলম বলেন, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি কিছুটা স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু হোটেল খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। যে কক্ষের ভাড়া আগে কম শুনেছিলাম, সেটির জন্য বেশি টাকা চাওয়া হয়েছে। এতে আমাদের ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

 

আরেক পর্যটকের লুৎফর নাহার বলেন, সমুদ্র সৈকত দেখতে ভালো লাগলেও যানজট, অতিরিক্ত খরচ এবং বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি আমাদের হতাশ করেছে। পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

 

আব্দুল জলিল নামের পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, আমরা সবাই জানি এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কিন্তু দুঃখের বিষয় এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ নোংরা এবং বিশৃঙ্খল সমুদ্র সৈকতে পরিণত হয়েছে। এখানে টুরিস্ট পুলিশের কোন সেবা পর্যটকরা পায়না। আমি গত দুদিনে টুরিস্ট পুলিশের একজন সদস্যকেও চোখে দেখিনি।

 

এছাড়াও বর্তমানে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্ট সহ প্রতিটি পয়েন্টেই হাজার হাজার হকার, ভিক্ষুক ও মেসেজ পার্টির যন্ত্রণায় পর্যটকটা অতিষ্ঠ।

 

পর্যটন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। যানবাহনের চাপ, পার্কিং সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে কোথাও কোথাও পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি খাবার ও অন্যান্য সেবার মূল্যতালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন না করা হলে পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সৈকতের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মূল্যতালিকা প্রদর্শন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটক হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

 

পর্যটকদের প্রত্যাশা, কক্সবাজারে ভ্রমণ যেন শুধু সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী পরিবেশে স্বস্তির সময় কাটানোর সুযোগও নিশ্চিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কক্সবাজার আবারও পর্যটকদের কাছে আনন্দময় অবকাশযাপনের নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ:

আনন্দের বদলে দুর্ভোগের নাম কক্সবাজার, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

আপডেট সময়: ১১:৪৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের ঢেউ, দিগন্তজোড়া বালুকাবেলা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। পরিবার-পরিজন নিয়ে অবকাশ যাপন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর প্রত্যাশা থাকলেও নানা অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তিতে অনেকের কাছে সেই আনন্দই হয়ে উঠছে দুর্ভোগের কারণ। আবাসন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, খাবারের দাম নিয়ে অসন্তোষ, যানজট এবং পর্যটন এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, ছুটির দিন ও পর্যটকের চাপ বাড়লে অনেক হোটেলে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হোটেল না পেয়ে কিছু পর্যটককে বিকল্প আবাসনের খোঁজে দীর্ঘ সময় ঘুরতে হয়। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে ভ্রমণে আসা পরিবারগুলোকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক শাহরিয়ার আলম বলেন, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি কিছুটা স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু হোটেল খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। যে কক্ষের ভাড়া আগে কম শুনেছিলাম, সেটির জন্য বেশি টাকা চাওয়া হয়েছে। এতে আমাদের ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

 

আরেক পর্যটকের লুৎফর নাহার বলেন, সমুদ্র সৈকত দেখতে ভালো লাগলেও যানজট, অতিরিক্ত খরচ এবং বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি আমাদের হতাশ করেছে। পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

 

আব্দুল জলিল নামের পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, আমরা সবাই জানি এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কিন্তু দুঃখের বিষয় এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ নোংরা এবং বিশৃঙ্খল সমুদ্র সৈকতে পরিণত হয়েছে। এখানে টুরিস্ট পুলিশের কোন সেবা পর্যটকরা পায়না। আমি গত দুদিনে টুরিস্ট পুলিশের একজন সদস্যকেও চোখে দেখিনি।

 

এছাড়াও বর্তমানে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্ট সহ প্রতিটি পয়েন্টেই হাজার হাজার হকার, ভিক্ষুক ও মেসেজ পার্টির যন্ত্রণায় পর্যটকটা অতিষ্ঠ।

 

পর্যটন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। যানবাহনের চাপ, পার্কিং সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে কোথাও কোথাও পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি খাবার ও অন্যান্য সেবার মূল্যতালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন না করা হলে পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সৈকতের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মূল্যতালিকা প্রদর্শন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটক হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

 

পর্যটকদের প্রত্যাশা, কক্সবাজারে ভ্রমণ যেন শুধু সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী পরিবেশে স্বস্তির সময় কাটানোর সুযোগও নিশ্চিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কক্সবাজার আবারও পর্যটকদের কাছে আনন্দময় অবকাশযাপনের নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।