ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারের বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ হকারদের দখলে, ভোগান্তিতে পথচারীরা

সাভারে পথচারীদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ এখন হকারদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজের ওপর বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন হকাররা। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। কোথাও কোথাও পণ্য ও দোকানের ভিড়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্ক পথচারীরা।

 

সাভার বাসস্ট্যান্ড, বাজার বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হকারদের দখলদারত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

 

এসব ব্রিজের ওপর কাপড়, জুতা, খেলনা, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানোর কারণে অনেক পথচারীকে সরু জায়গা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যস্ত মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্রিজের ওপর হকারদের দোকান বসায় অনেক সময় পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময়, সকালবেলা কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতের সময় এবং স্কুল-কলেজ খোলার মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

একাধিক পথচারীর মতে, ফুটওভার ব্রিজে ওঠার পর দুই পাশে দোকান ও পণ্যের স্তূপ থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। নারী ও শিশুদের নিয়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। এ ছাড়া অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করা আরও কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পারাপারের ক্ষেত্রেও তৈরি হয় বাধা।

 

স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক পারাপারের ঝুঁকি এড়াতে আমরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি। কিন্তু এখানে উঠেও স্বস্তি পাওয়া যায় না। দুই পাশে দোকান থাকায় অনেক সময় ধীরে ধীরে পথ চলতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ব্রিজগুলো হকারমুক্ত করে মানুষের চলাচলের উপযোগী রাখা।

 

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হকারদেরও জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করা ঠিক নয়। তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে হকাররাও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটওভার ব্রিজের ওপর দোকানপাট বসানোর কারণে শুধু চলাচলে বাধাই সৃষ্টি হয় না, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। ব্রিজের সিঁড়ি ও ওঠানামার জায়গায় পণ্য সাজিয়ে রাখা হলে মানুষের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

এ অবস্থায় সাভারের ফুটওভার ব্রিজগুলো হকারদের দখলমুক্ত করতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; উচ্ছেদের পর আবারও যাতে কেউ দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবসার জায়গা নির্ধারণ করা গেলে সমস্যাটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।

 

স্থানীয়দের দাবি, সাভারের ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটওভার ব্রিজগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্রিজের সিঁড়ি, প্রবেশপথ ও বের হওয়ার স্থানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

 

জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলোই তাঁদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকবে।

ট্যাগ:

সাভারের বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ হকারদের দখলে, ভোগান্তিতে পথচারীরা

আপডেট সময়: ১০:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাভারে পথচারীদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ এখন হকারদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজের ওপর বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন হকাররা। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। কোথাও কোথাও পণ্য ও দোকানের ভিড়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্ক পথচারীরা।

 

সাভার বাসস্ট্যান্ড, বাজার বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হকারদের দখলদারত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

 

এসব ব্রিজের ওপর কাপড়, জুতা, খেলনা, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানোর কারণে অনেক পথচারীকে সরু জায়গা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যস্ত মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্রিজের ওপর হকারদের দোকান বসায় অনেক সময় পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময়, সকালবেলা কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতের সময় এবং স্কুল-কলেজ খোলার মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

একাধিক পথচারীর মতে, ফুটওভার ব্রিজে ওঠার পর দুই পাশে দোকান ও পণ্যের স্তূপ থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। নারী ও শিশুদের নিয়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। এ ছাড়া অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করা আরও কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পারাপারের ক্ষেত্রেও তৈরি হয় বাধা।

 

স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক পারাপারের ঝুঁকি এড়াতে আমরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি। কিন্তু এখানে উঠেও স্বস্তি পাওয়া যায় না। দুই পাশে দোকান থাকায় অনেক সময় ধীরে ধীরে পথ চলতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ব্রিজগুলো হকারমুক্ত করে মানুষের চলাচলের উপযোগী রাখা।

 

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হকারদেরও জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করা ঠিক নয়। তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে হকাররাও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটওভার ব্রিজের ওপর দোকানপাট বসানোর কারণে শুধু চলাচলে বাধাই সৃষ্টি হয় না, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। ব্রিজের সিঁড়ি ও ওঠানামার জায়গায় পণ্য সাজিয়ে রাখা হলে মানুষের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

এ অবস্থায় সাভারের ফুটওভার ব্রিজগুলো হকারদের দখলমুক্ত করতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; উচ্ছেদের পর আবারও যাতে কেউ দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবসার জায়গা নির্ধারণ করা গেলে সমস্যাটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।

 

স্থানীয়দের দাবি, সাভারের ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটওভার ব্রিজগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্রিজের সিঁড়ি, প্রবেশপথ ও বের হওয়ার স্থানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

 

জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলোই তাঁদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকবে।