
সাভার ও আশুলিয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে কোথাও মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার—এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। বেশিরভাগ ক্রেতাকেই কিনতে হচ্ছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬ থেকে ৭শত টাকা বেশি দামে। অনেক এলাকায় সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রান্নার জ্বালানির জন্য বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম জানতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে দাম চাইছেন। আবার কোনো কোনো দোকানে সিলিন্ডার নেই বলে জানানো হচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বেশি দাম দিয়েই গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার।
সাভার পৌর এলাকার এক
ভুক্তভোগী গৃহিণী আয়েশা আক্তার বলেন, প্রতি মাসেই সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানিরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চান। কয়েকটি দোকানে খোঁজ করেও সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাইনি। রান্না তো বন্ধ রাখা যায় না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আগে পরিচিত দোকান থেকেই গ্যাস কিনতাম। এখন গেলে কখনো বলা হয় সিলিন্ডার নেই, আবার কোথাও বেশি দাম চাওয়া হয়। এক দোকানে যে দাম বলে, অন্য দোকানে তার চেয়ে বেশি চায়। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
হেমায়েতপুর এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, গ্যাসের দাম বাড়তি হলে শুধু পরিবারের রান্নার খরচ নয়, ছোট খাবারের দোকান ও হোটেল পরিচালনার ব্যয়ও বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা খাবারের দাম বাড়ানোর চাপে পড়েন। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্য দোকানে দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা বন্ধে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজি বাজারে সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয়, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণের অসংগতি—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে সাভার ও আশুলিয়ায় প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার পেছনে কী কারণ কাজ করছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
এদিকে সাধারণ গ্রাহকেরা বলছেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামের বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমবে না। তাই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মূল্যতালিকা যাচাই এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি জোরদার করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করবে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হবে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
স্টাফ রিপোর্টার 











