ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারের মহাসড়কে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা, নীরব দর্শকের ভূমিকায় ট্রাফিক পুলিশ

সাভারের ব্যস্ততম মহাসড়ক ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দিন দিন বাড়ছে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা। যত্রতত্র বাস থামানো, মহাসড়কের ওপঅটোরিকশা র যাত্রী ওঠানামা, অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের সময় অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায় না।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের সামনে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বাস ও মিনিবাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতে উল্টো পথে চলছে অটোরিক্সা। অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একদিকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে রাস্তা পারাপারের জন্য পথচারীদের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

পথচারীদের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ছোট যানবাহনের ফাঁক দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে চলাচলকারী এক পথচারী মোখলেসুর রহমান বলেন, এখানে যানবাহন যে যার মতো চলছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় না দাঁড়িয়ে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠায়। এতে যানজট যেমন হয়, তেমনি রাস্তা পার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও অনেক সময় তাদের তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।
আরেক ভুক্তভোগী নাসিমা আক্তার বলেন, অফিস ও স্কুলের সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হতে অনেক সময় লাগে। কেউ নিয়ম মানছে না, আবার কেউ নিয়ম ভাঙলেও কার্যকরভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা জরুরি। শুধু যানজটের সময় কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেই সমস্যার সমাধান হবে না; অবৈধ পার্কিং, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং উল্টোপথে চলাচলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। যানজটের কারণে দোকানে ক্রেতা আসতেও সমস্যা হয়। মহাসড়ক দখল করে যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ করতে পারলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।

এদিকে যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাভারবাসীর প্রত্যাশা, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় যান চলাচলের এই বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং প্রতিদিনের যাতায়াতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন, সাভার অঞ্চলে দিনদিন যে পরিমাণ অটোরিকশা সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটা সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা মহাসড়ক থেকে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে সেটা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না।

ট্যাগ:

সাভারের মহাসড়কে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা, নীরব দর্শকের ভূমিকায় ট্রাফিক পুলিশ

আপডেট সময়: ১১:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সাভারের ব্যস্ততম মহাসড়ক ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দিন দিন বাড়ছে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা। যত্রতত্র বাস থামানো, মহাসড়কের ওপঅটোরিকশা র যাত্রী ওঠানামা, অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের সময় অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায় না।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের সামনে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বাস ও মিনিবাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতে উল্টো পথে চলছে অটোরিক্সা। অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একদিকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে রাস্তা পারাপারের জন্য পথচারীদের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

পথচারীদের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ছোট যানবাহনের ফাঁক দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে চলাচলকারী এক পথচারী মোখলেসুর রহমান বলেন, এখানে যানবাহন যে যার মতো চলছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় না দাঁড়িয়ে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠায়। এতে যানজট যেমন হয়, তেমনি রাস্তা পার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও অনেক সময় তাদের তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।
আরেক ভুক্তভোগী নাসিমা আক্তার বলেন, অফিস ও স্কুলের সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হতে অনেক সময় লাগে। কেউ নিয়ম মানছে না, আবার কেউ নিয়ম ভাঙলেও কার্যকরভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা জরুরি। শুধু যানজটের সময় কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেই সমস্যার সমাধান হবে না; অবৈধ পার্কিং, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং উল্টোপথে চলাচলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। যানজটের কারণে দোকানে ক্রেতা আসতেও সমস্যা হয়। মহাসড়ক দখল করে যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ করতে পারলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।

এদিকে যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাভারবাসীর প্রত্যাশা, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় যান চলাচলের এই বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং প্রতিদিনের যাতায়াতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন, সাভার অঞ্চলে দিনদিন যে পরিমাণ অটোরিকশা সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটা সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা মহাসড়ক থেকে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে সেটা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না।