
সাভার ও আশুলিয়ায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জ্বর, শরীর ব্যথা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগীর চাপ বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৬ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং আটজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২১৪ জনের।
সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত স্থাপনা, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থানে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত ও পর্যাপ্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
হেমায়েতপুরের বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, বাড়ির আশপাশে অনেক জায়গায় পানি জমে থাকে। মশার উপদ্রবও অনেক বেড়েছে। পরিবারের একজন জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন সবাই আতঙ্কে আছি। নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা দরকার।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি। সন্ধ্যার পর মশার কারণে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে শুধু ফগিং কার্যকর ফল দেবে না।
অন্যদিকে আইইডিসিআর-এর বিশ্লেষণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এবং মশা নিয়ন্ত্রণ ও উৎসস্থল ধ্বংসে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি, পেটব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।
তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
২৬ সেপ্টেম্বর সাভার উপজেলা প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধনে স্প্রে কার্যক্রম শুরু করেছে যা কিনা খুবই অপ্রতুল। সাভার পৌরসভার দুই একটি এলাকায় লোক দেখানো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশকনিধন স্প্রে করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা না করে সাভার ও আশুলিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত মশক নিধন, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হোক। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুবিধা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্টাফ রিপোর্টার 











