ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ, ৪ দিনেও গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশন শনাক্ত হয়নি

আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৮জন নিহত হওয়ার ৪ দিন পরও গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশন শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রীতি গ্রুপের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

তদন্তের শুরুতেই কারখানায় গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশনের তালিকা, চুক্তিপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেগুলো পুলিশের হাতে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ।

 

তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতেই প্রীতি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশনের তালিকা, চুক্তিপত্র ও যাবতীয় নথিপত্র চেয়েছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো নথি দেয়নি। আমরা সিএনজি স্টেশন শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

হারুন অর রশিদ বলেন, সিএনজি স্টেশন শনাক্তের পর যদি অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারব।

 

বিস্ফোরণের পর কারখানা চত্বরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো কোথা থেকে এবং কীভাবে আনা হয়েছিল, তা তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সিএনজি স্টেশন শনাক্ত করা গেলে গ্যাস সংগ্রহের উৎস, সরবরাহের সময় ও পরিমাণ এবং পরিবহনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

 

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান এর আগে বলেন, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিতে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশের কোনো আইন বা বিধানে এভাবে পরিবহনের অনুমোদন নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রীতি গ্রুপ যে পদ্ধতিতে গ্যাস মজুত ও পরিবহন করছিল, তা আইন অনুযায়ী অবৈধ। এ ঘটনায় গ্যাস সরবরাহের পদ্ধতি ও পরিবহনের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

 

ঘটনার পর অনুমতিহীন সিলিন্ডারবাহী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে সিএনজি স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তিতাসের আশুলিয়া জোনাল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর সিএনজি স্টেশনগুলোকে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আটজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।

 

ঘটনার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুলকে আসামি করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার তিন দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

 

মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্তে কারও বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগ:

আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ, ৪ দিনেও গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশন শনাক্ত হয়নি

আপডেট সময়: ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৮জন নিহত হওয়ার ৪ দিন পরও গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশন শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রীতি গ্রুপের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

তদন্তের শুরুতেই কারখানায় গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশনের তালিকা, চুক্তিপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেগুলো পুলিশের হাতে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ।

 

তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতেই প্রীতি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশনের তালিকা, চুক্তিপত্র ও যাবতীয় নথিপত্র চেয়েছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো নথি দেয়নি। আমরা সিএনজি স্টেশন শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

হারুন অর রশিদ বলেন, সিএনজি স্টেশন শনাক্তের পর যদি অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারব।

 

বিস্ফোরণের পর কারখানা চত্বরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো কোথা থেকে এবং কীভাবে আনা হয়েছিল, তা তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সিএনজি স্টেশন শনাক্ত করা গেলে গ্যাস সংগ্রহের উৎস, সরবরাহের সময় ও পরিমাণ এবং পরিবহনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

 

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান এর আগে বলেন, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিতে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশের কোনো আইন বা বিধানে এভাবে পরিবহনের অনুমোদন নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রীতি গ্রুপ যে পদ্ধতিতে গ্যাস মজুত ও পরিবহন করছিল, তা আইন অনুযায়ী অবৈধ। এ ঘটনায় গ্যাস সরবরাহের পদ্ধতি ও পরিবহনের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

 

ঘটনার পর অনুমতিহীন সিলিন্ডারবাহী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে সিএনজি স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তিতাসের আশুলিয়া জোনাল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর সিএনজি স্টেশনগুলোকে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আটজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।

 

ঘটনার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুলকে আসামি করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার তিন দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

 

মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্তে কারও বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।