
সড়কের আকস্মিক এক দৃশ্য বদলে দিল একটি তাজা প্রাণ, শোকের ছায়া নামাল একটি পরিবারে। ঢাকার ধামরাইয়ে হঠাৎ রাস্তার মাঝে চলে আসা এক শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজে সর্বস্বান্ত হলেন এক মোটরসাইকেল চালক। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী বজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ধামরাইয়ের কালামপুর–সাটুরিয়া সড়কের মধুডাঙ্গা এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালের দিকে কালামপুরমুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সামনে হঠাৎ এক শিশু দৌড়ে চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে এবং শিশুটিকে বাঁচাতে চালক তড়িঘড়ি করে ব্রেক কষেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি—নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি প্রথমে সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে এবং পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে পিষে দেয়।
সংঘর্ষটি এতটাই আকস্মিক ও তীব্র ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আরোহী বজলুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও কেড়ে নেওয়া হলো নিরপরাধ এক প্রৌঢ়ের প্রাণ।
এ ঘটনায় ট্রাকচালকসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মনে সবচেয়ে বড় দাগ কেটেছে অন্য একটি বিষয়—তাদের দাবি, ঠিক একই স্থানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় সড়ক দুর্ঘটনা!
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং সড়কে প্রয়োজনীয় গতিনিয়ন্ত্রক বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি নিষ্পাপ শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটা এই আত্মত্যাগী ও মর্মান্তিক ঘটনাটি এখন পুরো এলাকাবাসীকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাড়ি খুব কাছাকাছি হওয়ায় স্বজনরা মরদেহ আগেই বাড়ি নিয়ে গেছে।
আশরাফুল আলম 










