ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার-আশুলিয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

সাভার ও আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রান্নার খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা, আশুলিয়ার জামগড়া, বাইপাইল, নিশ্চিন্তপুর, শিমুলিয়া, জিরাবোসহ বেশ কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ভোর ও সকালবেলায় রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকলেও দিনের অন্যান্য সময় অনেক ক্ষেত্রেই চুলা জ্বলছে না। আবার কোথাও কোথাও মাঝরাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাত জেগে রান্না করছেন বাসিন্দারা।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবারে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মজীবী মানুষের অফিসে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপিজি সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা কিংবা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

 

আশুলিয়ার একজন বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে কাজে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য নাশতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস কখন আসে, কখন চলে যায়—কোনো ঠিক নেই। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। এতে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

 

সাভারের এক গৃহিণী শাহিদা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গেলে অনেক সময় চুলায় আগুনই জ্বলে না। পরিবারের সবাইকে সময়মতো খাবার দিতে পারি না। ছোট বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষ থাকায় সমস্যাটা আরও বেশি হচ্ছে।

 

আরেক ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্যাসের সমস্যা নতুন নয়। দিনের পর দিন একই অবস্থা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিল্পাঞ্চল হিসেবে সাভার-আশুলিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। এখানে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে শুধু বাসাবাড়ি নয়, ছোট-বড় ব্যবসা ও শিল্পকারখানাতেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে দ্রুত সংকটের কারণ চিহ্নিত করে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরিবার রান্নার কাজে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, অবৈধ সংযোগ ও লাইনের সক্ষমতাসহ সংকটের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করবে। দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ:

সাভার-আশুলিয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময়: ০৯:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার ও আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রান্নার খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা, আশুলিয়ার জামগড়া, বাইপাইল, নিশ্চিন্তপুর, শিমুলিয়া, জিরাবোসহ বেশ কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ভোর ও সকালবেলায় রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকলেও দিনের অন্যান্য সময় অনেক ক্ষেত্রেই চুলা জ্বলছে না। আবার কোথাও কোথাও মাঝরাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাত জেগে রান্না করছেন বাসিন্দারা।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবারে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মজীবী মানুষের অফিসে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপিজি সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা কিংবা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

 

আশুলিয়ার একজন বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে কাজে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য নাশতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস কখন আসে, কখন চলে যায়—কোনো ঠিক নেই। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। এতে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

 

সাভারের এক গৃহিণী শাহিদা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গেলে অনেক সময় চুলায় আগুনই জ্বলে না। পরিবারের সবাইকে সময়মতো খাবার দিতে পারি না। ছোট বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষ থাকায় সমস্যাটা আরও বেশি হচ্ছে।

 

আরেক ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্যাসের সমস্যা নতুন নয়। দিনের পর দিন একই অবস্থা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিল্পাঞ্চল হিসেবে সাভার-আশুলিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। এখানে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে শুধু বাসাবাড়ি নয়, ছোট-বড় ব্যবসা ও শিল্পকারখানাতেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে দ্রুত সংকটের কারণ চিহ্নিত করে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরিবার রান্নার কাজে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, অবৈধ সংযোগ ও লাইনের সক্ষমতাসহ সংকটের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করবে। দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।