ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার-আশুলিয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং, ব্যাহত শিক্ষা-ব্যবসা ও শিল্প উৎপাদন

ঢাকার শিল্পাঞ্চলখ্যাত সাভার ও আশুলিয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির সংকট, মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই পুনরায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক কাজের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

 

সাভারের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা সামনে রেখে রাতে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে আলো ও ফ্যান দুটোই বন্ধ হয়ে যায়। গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মোবাইলের চার্জও থাকে না। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।

 

অভিভাবকদেরও একই অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম বিদ্যুৎ নির্ভর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনার রুটিনও ব্যাহত হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমে গেছে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সাভার বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানের অনেক কাজ বন্ধ থাকে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের কাজ করা যায় না। ক্রেতারা এসে অপেক্ষা করেন, আবার অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে যান। এতে সরাসরি ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।

 

আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক ও কারখানা-সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সময় কাজের প্রয়োজন হচ্ছে।

 

এক পোশাক কারখানার শ্রমিক বলেন, মেশিন চালু থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ থেমে যায়। আবার বিদ্যুৎ এলে সবাইকে নতুন করে কাজ শুরু করতে হয়। এতে দিনের উৎপাদন কমে যায় এবং কাজের চাপ বেড়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু শিল্প ও ব্যবসা নয়, বাসাবাড়িতেও লোডশেডিংয়ের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির পাম্প চালানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পরিবারে খাবার পানি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দেয়। গরমের সময় ফ্যান ও এসি বন্ধ থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

 

আশুলিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, দিনে বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনোভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারের সবাই কষ্টে পড়ে। পানি তোলার পাম্প চালানো যায় না, বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

 

এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।

 

স্থানীয়দের দাবি, সাভার ও আশুলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার, পুরোনো লাইন ও ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিতভাবে লোড ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন সাভার ও আশুলিয়ার বাসিন্দারা।

ট্যাগ:

সাভার-আশুলিয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং, ব্যাহত শিক্ষা-ব্যবসা ও শিল্প উৎপাদন

আপডেট সময়: ১০:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার শিল্পাঞ্চলখ্যাত সাভার ও আশুলিয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির সংকট, মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই পুনরায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক কাজের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

 

সাভারের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা সামনে রেখে রাতে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে আলো ও ফ্যান দুটোই বন্ধ হয়ে যায়। গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মোবাইলের চার্জও থাকে না। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।

 

অভিভাবকদেরও একই অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম বিদ্যুৎ নির্ভর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনার রুটিনও ব্যাহত হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমে গেছে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সাভার বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানের অনেক কাজ বন্ধ থাকে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের কাজ করা যায় না। ক্রেতারা এসে অপেক্ষা করেন, আবার অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে যান। এতে সরাসরি ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।

 

আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক ও কারখানা-সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সময় কাজের প্রয়োজন হচ্ছে।

 

এক পোশাক কারখানার শ্রমিক বলেন, মেশিন চালু থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ থেমে যায়। আবার বিদ্যুৎ এলে সবাইকে নতুন করে কাজ শুরু করতে হয়। এতে দিনের উৎপাদন কমে যায় এবং কাজের চাপ বেড়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু শিল্প ও ব্যবসা নয়, বাসাবাড়িতেও লোডশেডিংয়ের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির পাম্প চালানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পরিবারে খাবার পানি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দেয়। গরমের সময় ফ্যান ও এসি বন্ধ থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

 

আশুলিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, দিনে বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনোভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারের সবাই কষ্টে পড়ে। পানি তোলার পাম্প চালানো যায় না, বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

 

এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।

 

স্থানীয়দের দাবি, সাভার ও আশুলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার, পুরোনো লাইন ও ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিতভাবে লোড ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন সাভার ও আশুলিয়ার বাসিন্দারা।