ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় অভিযোগ

আমি না খেয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক দোকানে টাকা জমাইছি। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাইছি। তাই এক দোকান মালিকের কাছে দিচ্ছি। এরকম করে তিন বছরে দেড় লাখ টাকা জমাছি। সেই টাকা বাড়িতে আনার পরই নেশাগ্রস্ত এক ছেলে ভাত খাওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে দেড় লাখ টাকা লুট করেছে’ -এভাবেই সর্বস্ব হারিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নূর আলম।

 

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় মাহবুরে মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিবেদকের।

 

ভিক্ষুক নূর আলম জানান, ‘আমি আট বছর আগে স্ত্রী ও এক কন্যা এবং এক ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে সাভারে এসেছি। সেসময় সাভারে এসে সবজির ব্যবসায় শুরু করি। তখন পরিবার নিয়ে সুখের কাটছিল দিন। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি আর কাজ করতে পারছিলাম না এবং উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে ওঠেছিলাম। সেসময় অসুস্থ্য অবস্থায় ওই বাসা থেকে স্ত্রী আমাকে বের করে দেন’ বলে জানান তিনি।

 

এসময় নূর আলম এক বুক আর্তনাদ নিয়ে বললেন, সে একা হয়ে পড়লে আর কোনও দিশা না পেয়ে ভিক্ষা করা শুরু করেন। তখন এক মুদি দোকান মালিক লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয় নূর আলমের।

 

প্রতিদিনের ভিক্ষার টাকা জমা দিয়ে হিসেব রাখতেন তিনি । এভাবে তিন বছর টাকা জমায়। কিন্তু কোরবানির ঈদের পরে জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চায় নূর আলম। সেকারণে মুদি দোকানি লিটনের কাছে টাকা চান। গত মাসে ৩১ মে দোকান মালিক নূর আলমকে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেন লিটন। পরে সেই টাকা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ফিরেন নূর আলম। তবে নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ানের প্রলোভন দেখিয়ে সড়কে ডেকে নেন। পরে নূর আলমের জমানো মোট দেড় লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যান ওই যুবক। এরপরে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

দোকান মালিক লিটন জানান, নূর আলম প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পেত সেই টাকা আমার কাছে জমিয়েছিল। হঠাৎ কোরবানি ঈদের পরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকা ফেরত চায়। পরে আমার কাছে জমানো এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এরপরে সে বাসায় চলে যান। কিন্তু তাকে এক যুবক ভাত খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে টাকা লুট করে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা বেগম জানান,‘আমাদের পাশের কক্ষেই থাকে ভিক্ষুক নূর আলম। সে তিন বছর ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে বাসায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু রাস্তা দিয়ে আসার সময় অনেকেই তার লুঙ্গিতে করে টাকা নিয়ে আসার দৃশ্য দেখে। সেসময় নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক টাকা নিয়ে আসতে দেখে নূর আলমকে। পরে ওই যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ার জন্য ডেকে নেন। এরপর সে ভাত খেতে গেলে সব টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিক্ষুকের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক। কিন্তু অভিযুক্তের বাবা শাহ আলম এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তবে সে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দিয়ে পরিশোধ করতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুক এভাবে টাকা নিতে রাজি হয়নি। পরে তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। বর্তমানে মামলাটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

ট্যাগ:

সাভারে ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৮:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আমি না খেয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক দোকানে টাকা জমাইছি। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাইছি। তাই এক দোকান মালিকের কাছে দিচ্ছি। এরকম করে তিন বছরে দেড় লাখ টাকা জমাছি। সেই টাকা বাড়িতে আনার পরই নেশাগ্রস্ত এক ছেলে ভাত খাওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে দেড় লাখ টাকা লুট করেছে’ -এভাবেই সর্বস্ব হারিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নূর আলম।

 

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় মাহবুরে মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিবেদকের।

 

ভিক্ষুক নূর আলম জানান, ‘আমি আট বছর আগে স্ত্রী ও এক কন্যা এবং এক ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে সাভারে এসেছি। সেসময় সাভারে এসে সবজির ব্যবসায় শুরু করি। তখন পরিবার নিয়ে সুখের কাটছিল দিন। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি আর কাজ করতে পারছিলাম না এবং উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে ওঠেছিলাম। সেসময় অসুস্থ্য অবস্থায় ওই বাসা থেকে স্ত্রী আমাকে বের করে দেন’ বলে জানান তিনি।

 

এসময় নূর আলম এক বুক আর্তনাদ নিয়ে বললেন, সে একা হয়ে পড়লে আর কোনও দিশা না পেয়ে ভিক্ষা করা শুরু করেন। তখন এক মুদি দোকান মালিক লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয় নূর আলমের।

 

প্রতিদিনের ভিক্ষার টাকা জমা দিয়ে হিসেব রাখতেন তিনি । এভাবে তিন বছর টাকা জমায়। কিন্তু কোরবানির ঈদের পরে জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চায় নূর আলম। সেকারণে মুদি দোকানি লিটনের কাছে টাকা চান। গত মাসে ৩১ মে দোকান মালিক নূর আলমকে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেন লিটন। পরে সেই টাকা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ফিরেন নূর আলম। তবে নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ানের প্রলোভন দেখিয়ে সড়কে ডেকে নেন। পরে নূর আলমের জমানো মোট দেড় লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যান ওই যুবক। এরপরে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

দোকান মালিক লিটন জানান, নূর আলম প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পেত সেই টাকা আমার কাছে জমিয়েছিল। হঠাৎ কোরবানি ঈদের পরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকা ফেরত চায়। পরে আমার কাছে জমানো এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এরপরে সে বাসায় চলে যান। কিন্তু তাকে এক যুবক ভাত খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে টাকা লুট করে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা বেগম জানান,‘আমাদের পাশের কক্ষেই থাকে ভিক্ষুক নূর আলম। সে তিন বছর ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে বাসায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু রাস্তা দিয়ে আসার সময় অনেকেই তার লুঙ্গিতে করে টাকা নিয়ে আসার দৃশ্য দেখে। সেসময় নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক টাকা নিয়ে আসতে দেখে নূর আলমকে। পরে ওই যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ার জন্য ডেকে নেন। এরপর সে ভাত খেতে গেলে সব টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিক্ষুকের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক। কিন্তু অভিযুক্তের বাবা শাহ আলম এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তবে সে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দিয়ে পরিশোধ করতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুক এভাবে টাকা নিতে রাজি হয়নি। পরে তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। বর্তমানে মামলাটি প্রক্রিয়াধীন আছে।