
ঢাকার ধামরাই থানাধীন একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সুমন (৪৩) গত ২২ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে তার প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির খবর পান। পরে তিনি এসে জানতে পারেন, একই দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে ৩৫-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল মুখে মাস্ক ও হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরির বাউন্ডারি টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।
ডাকাতরা প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে ফ্যাক্টরি থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৫ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধামরাই থানা-এ মামলা (নং-৩৭, তারিখ: ২৩/০৩/২০২৬, ধারা-৩৯৫/৩৯৭) দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর ঢাকা জেলা পুলিশ-এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান-এর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আরাফাতুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ধামরাই থানা-এর অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুল হুদা খান-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়।
অভিযানে অংশ নেন এসআই এস এম কাওসার সুলতান এবং এসআই মো. জুলফিকার আলী সহ সঙ্গীয় ফোর্স। তাদের সমন্বয়ে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এতে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
মো. জাহিদ হাসান (৩৫)
মো. চাঁন মিয়া (৬২)
মো. শোয়েব মিয়া (৩৯)
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামী জাহিদ হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ৬ চাকার পিকআপ (রিকভার গাড়ি) জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাবনা জেলার ভাটিয়াখাড়া এলাকা থেকে চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকা থেকে আরও একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁন মিয়া জানান, তিনি ডাকাতির লুটের মালামাল প্রায় ১৭ লাখ টাকায় ক্রয় করে পরবর্তীতে তা ২৪ লাখ টাকায় শোয়েব মিয়ার কাছে বিক্রি করেন।
পরবর্তীতে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়েব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরির গুদাম থেকে লুট হওয়া মালামালের অংশ হিসেবে ৪৯টি সীসার বার (ওজন প্রায় ১৪৪৯ কেজি) উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৫ টাকা।
এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২টি পিকআপ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট আনুমানিক মূল্য ৪৮ লাখ টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আশরাফুল আলম : 










