ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হকার ও যানজটমুক্ত সাভার বাসস্ট্যান্ড, এলাকাবাসীর স্বস্তি প্রকাশ

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে সাভারের সাধারণ মানুষ। হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় বদলে গেছে সাভারের চিত্র। প্রতিদিনের দুর্ভোগ কমে যাওয়ায় এলাকাবাসী প্রকাশ করছেন স্বস্তি ও সন্তোষ।
সাভারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আগে ছিল অসহনীয় যানজট ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের ভিড়। পথচারীদের চলাচল ছিল কষ্টকর, আর যানবাহন চলাচল প্রায়ই থমকে থাকত। বিশেষ করে সাভার বাসস্ট্যান্ড, থানা রোড, বাজার এলাকা ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই সমস্যার প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আগে প্রতিদিন অফিসে যেতে দেরি হতো। যানজটের কারণে এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে আধাঘণ্টা লাগত। এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি।”
একজন শিক্ষার্থী তানিয়া ইসলাম জানান, “ফুটপাত আগে পুরোটা হকারে ভর্তি থাকত। হাঁটার কোনো জায়গা ছিল না। এখন ফুটপাত পরিষ্কার থাকায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “যানজট কমায় এখন ক্রেতারা সহজে দোকানে আসতে পারছে। আগের মতো ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নেই। এতে ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।”
একজন গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, “বাজার করতে বের হলে আগে খুব কষ্ট হতো। ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এখন অনেকটা স্বস্তিতে বাজার করতে পারছি।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাভারকে হকার ও যানজটমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি সাভারের প্রধান সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে ধরে রাখা সম্ভব হবে।”
তবে কিছু হকারের অভিযোগও রয়েছে। তারা বলছেন, হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক হকার বলেন, “আমরা তো খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট কোনো জায়গা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সেখানেই ব্যবসা করব।”
সচেতন মহলের মতে, সাভারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করা এবং ফুটপাত দখল না করা—এসব বিষয় মেনে চললে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
সর্বোপরি, হকার ও যানজটমুক্ত সাভার এখন এলাকাবাসীর কাছে এক স্বস্তির নাম। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান দেখে মানুষ আশাবাদী, ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সাভার একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে।
ট্যাগ:

হকার ও যানজটমুক্ত সাভার বাসস্ট্যান্ড, এলাকাবাসীর স্বস্তি প্রকাশ

আপডেট সময়: ০৯:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে সাভারের সাধারণ মানুষ। হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় বদলে গেছে সাভারের চিত্র। প্রতিদিনের দুর্ভোগ কমে যাওয়ায় এলাকাবাসী প্রকাশ করছেন স্বস্তি ও সন্তোষ।
সাভারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আগে ছিল অসহনীয় যানজট ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের ভিড়। পথচারীদের চলাচল ছিল কষ্টকর, আর যানবাহন চলাচল প্রায়ই থমকে থাকত। বিশেষ করে সাভার বাসস্ট্যান্ড, থানা রোড, বাজার এলাকা ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই সমস্যার প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আগে প্রতিদিন অফিসে যেতে দেরি হতো। যানজটের কারণে এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে আধাঘণ্টা লাগত। এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি।”
একজন শিক্ষার্থী তানিয়া ইসলাম জানান, “ফুটপাত আগে পুরোটা হকারে ভর্তি থাকত। হাঁটার কোনো জায়গা ছিল না। এখন ফুটপাত পরিষ্কার থাকায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “যানজট কমায় এখন ক্রেতারা সহজে দোকানে আসতে পারছে। আগের মতো ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নেই। এতে ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।”
একজন গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, “বাজার করতে বের হলে আগে খুব কষ্ট হতো। ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এখন অনেকটা স্বস্তিতে বাজার করতে পারছি।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাভারকে হকার ও যানজটমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি সাভারের প্রধান সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে ধরে রাখা সম্ভব হবে।”
তবে কিছু হকারের অভিযোগও রয়েছে। তারা বলছেন, হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক হকার বলেন, “আমরা তো খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট কোনো জায়গা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সেখানেই ব্যবসা করব।”
সচেতন মহলের মতে, সাভারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করা এবং ফুটপাত দখল না করা—এসব বিষয় মেনে চললে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
সর্বোপরি, হকার ও যানজটমুক্ত সাভার এখন এলাকাবাসীর কাছে এক স্বস্তির নাম। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান দেখে মানুষ আশাবাদী, ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সাভার একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে।