ঢাকার উপকণ্ঠের শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় ব্যস্ত সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন অনেকটাই হকারদের দখলে। ফলে নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন পথচারীদের জন্য এক ধরনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ও চলাচলের পথজুড়ে বসেছে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান। এতে করে পথচারীরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিচের ব্যস্ত সড়ক দিয়েই পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হেমায়েতপুর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, নবীনগর, বাইপাইল ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজ এখন হকারদের নিয়ন্ত্রণে। তারা কাপড়, জুতা, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফলমূল, চা-নাশতা সহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন। অনেক সময় দোকানের কারণে চলাচলের পথ এতটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যে, একসঙ্গে দুইজন মানুষও ঠিকমতো চলাচল করতে পারেন না।
নবীনগর এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে আসা পথচারী আব্দুল করিম বলেন, “এই ব্রিজ দিয়ে ওঠা এখন অনেক কষ্টের। হকাররা পুরো ব্রিজ দখল করে রেখেছে। হাঁটার জায়গা নেই। অনেক সময় নিচ দিয়েই রাস্তা পার হতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন আশুলিয়ার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন কাজের জন্য এই রাস্তা পার হই। কিন্তু ব্রিজে এত দোকান বসে যে ঠিকমতো হাঁটা যায় না। ভিড়ের মধ্যে পড়ে অনেক সময় পড়ে যাওয়ারও উপক্রম হয়।”
স্থানীয় আরেক পথচারী মো. রাশেদ বলেন, “ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে মানুষকে নিরাপদে রাস্তা পার করার জন্য। কিন্তু এখন সেখানে বাজার বসে গেছে। প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান চালায় তাহলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।”
শুধু পথচারীরাই নয়, অনেক শিক্ষার্থীও এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সাভারের একটি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, “ক্লাসে যাওয়ার সময় আমরা প্রায়ই এই ব্রিজ ব্যবহার করি। কিন্তু হকারদের ভিড়ের কারণে উঠানামা করতেই অনেক সময় লাগে। কখনো কখনো নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়, যা খুবই বিপজ্জনক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুব আলম মনে করেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, “হকারদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে ফুটওভার ব্রিজ দখল করে ব্যবসা করা ঠিক নয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
এদিকে কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, জীবিকার তাগিদেই তারা এখানে বসেছেন। ফুটওভার ব্রিজে দোকান বসানো ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপায় নেই বলেও দাবি করেন তারা।
তবে সচেতন মহল মনে করছে, এই সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ফুটওভার ব্রিজে হকার বসতে না দেওয়া এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, সাভার ও আশুলিয়ার মতো ব্যস্ত শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাই নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজগুলো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি এগুলো হকারদের দখলে থাকে, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
পথচারীরা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ফুটওভার ব্রিজগুলো দখলমুক্ত করবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে।
রাউফুর রহমান পরাগ 










