
আসন্ন ঈদ যাত্রায় সাভার ও আশুলিয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকটা উদ্বিগ্ন সাভার ও আশুলিয়াবাসী। বিশেষ করে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর বাইপাল সড়ক ও নবীনগর চন্দ্র সড়কের বিভিন্ন স্থানে এলিভেটেড এক্সপ্রেস এর কাজ চলায় তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গর্ত। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচলের বিভিন্ন সমস্যা শহর তৈরি হচ্ছে যানজট। এসব কথা মাথায় রেখে সাভার ও আশুলিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক এবং আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। তাই এবার আগেভাগেই যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কিছু সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েকটি অংশে খানাখন্দ মেরামত এবং রাস্তার পাশে অবৈধ দোকানপাট সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাভার হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে আমরা ইতোমধ্যে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছি। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত তা নিরসনের জন্য টহল টিম কাজ করবে। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধভাবে গাড়ি দাঁড় করানো বা যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাভার উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। তাই মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বাজার এলাকায় যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট ও বাসস্ট্যান্ডের কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানা বলেন, “ঈদের সময় সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। প্রশাসন যদি অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত দখল বন্ধ করতে পারে, তাহলে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে।”
আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “বাইপাইল থেকে আবদুল্লাহপুর সড়কে প্রায়ই যানজট হয়। বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটির সময় হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ঈদের আগে যদি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয় তাহলে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবে।”
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এক বাসচালক জানান, অনেক সময় ছোট যানবাহন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে উঠে পড়ায় গাড়ির গতি কমে যায় এবং যানজট তৈরি হয়। এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঈদ যাত্রা অনেক সহজ হবে।
সাভার ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে ওঠানামা করলে যানজট বাড়ে।”
স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, “সাভার ও আশুলিয়া ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। তাই ঈদকে সামনে রেখে শুধু পুলিশ নয়, সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, এবার যেন ঈদ যাত্রায় আগের মতো ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এবং সবাই ট্রাফিক নিয়ম মেনে চললে সাভার ও আশুলিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক থাকবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে সাভার ও আশুলিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন এবং সবার সচেতনতা থাকলে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা হবে নিরাপদ ও আনন্দময়।
রাউফুর রহমান পরাগ : 










