
ঘুষ বাণিজ্যের খবর প্রকাশ—আর তার জেরেই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আশুলিয়ায়। অভিযোগের তীর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারের দিকে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার সাভার উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুব আলম মানিক সম্প্রতি এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ জানুয়ারি আশুলিয়া থানা ভবনের পাশেই ওই সাংবাদিককে হেনাস্তা ও অসদাচরণ করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
সাংবাদিক মানিকের অভিযোগ, ঘুষের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাদের বক্তব্য—দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলে যদি সাংবাদিককেই হেনস্তার শিকার হতে হয়, তবে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এ বিষয়ে সাভার সার্কেলের এসপি আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্ত এসআই আনোয়ার তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যই যদি আইনের তোয়াক্কা না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়? এখন সবার নজর বিভাগীয় তদন্তের দিকে। সত্য উদঘাটন হবে, নাকি আবারও চাপা পড়ে যাবে অভিযোগ—সেই উত্তর সময়ই দেবে।
আলী রেজা রাজু 










