ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চমক দেখালেন ঢাকা – ২০ সংসদীয় আসনের বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন

আশরাফুল আলম : ঢাকা – ২০ সংসদীয় আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকয়টিতে বিজয়ী হয়ে চমক দেখালেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন। শুধু ভোটকেন্দ্রেই নয়, মহানগরসহ ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ধামরাই আসন থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ আসনে ৬ জনের মধ্যে বিএনপির আলহাজ তমিজ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (১১ দলীয় জোটের-এনসিপি) শাপলা কলি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট। মুফতি আশরাফ আলী খেলাফত মজলিস দেওয়াল ঘড়ি পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট। অপরদিকে জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট। বাংলাদেশ জাসদ আরজু মিয়া মোটরগাড়ি (কার) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন ঈগল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৭৮ ভোট। সব মিলিয়ে আহসান খান আছু, আরজু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন—তাঁরা ৩ জন মিলে বাতিল ভোটের চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে অনেক এগিয়ে ছিলেন বলে ভোটাররা তাঁর বিজয়কে নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন। ঢাকা – ২০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এ ভোটের মধ্যে ৬ হাজার ১১৭টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
বাংলাদেশ জাসদ প্রার্থী মোটরগাড়ি (কার) প্রতীকের আরজু মিয়া তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন না। এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন ঈগল প্রতীকে কিছুটা প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন, তবে মাঠ গোছাতে পারেননি। নির্বাচনী মাঠে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা সেই সুযোগ পেয়েছে এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল। তাই ১৪৭টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের বিজয় হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ তমিজ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে ১ বার ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে ৩ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরপর ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টির আমলে তমিজ উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু বিএনপির আমলে ১৯৯০ সালে উপজেলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদকে পরাজিত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশের মধ্যে ২০০৯ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এম এ মালেক ও ২০১৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র গোলাম কবিরকে পরাজিত করেন।
ট্যাগ:

চমক দেখালেন ঢাকা – ২০ সংসদীয় আসনের বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন

আপডেট সময়: ১২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আশরাফুল আলম : ঢাকা – ২০ সংসদীয় আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকয়টিতে বিজয়ী হয়ে চমক দেখালেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন। শুধু ভোটকেন্দ্রেই নয়, মহানগরসহ ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ধামরাই আসন থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ আসনে ৬ জনের মধ্যে বিএনপির আলহাজ তমিজ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (১১ দলীয় জোটের-এনসিপি) শাপলা কলি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট। মুফতি আশরাফ আলী খেলাফত মজলিস দেওয়াল ঘড়ি পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট। অপরদিকে জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট। বাংলাদেশ জাসদ আরজু মিয়া মোটরগাড়ি (কার) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন ঈগল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৭৮ ভোট। সব মিলিয়ে আহসান খান আছু, আরজু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন—তাঁরা ৩ জন মিলে বাতিল ভোটের চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে অনেক এগিয়ে ছিলেন বলে ভোটাররা তাঁর বিজয়কে নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন। ঢাকা – ২০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এ ভোটের মধ্যে ৬ হাজার ১১৭টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
বাংলাদেশ জাসদ প্রার্থী মোটরগাড়ি (কার) প্রতীকের আরজু মিয়া তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন না। এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন ঈগল প্রতীকে কিছুটা প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন, তবে মাঠ গোছাতে পারেননি। নির্বাচনী মাঠে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা সেই সুযোগ পেয়েছে এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল। তাই ১৪৭টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের বিজয় হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ তমিজ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে ১ বার ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে ৩ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরপর ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টির আমলে তমিজ উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু বিএনপির আমলে ১৯৯০ সালে উপজেলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদকে পরাজিত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশের মধ্যে ২০০৯ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এম এ মালেক ও ২০১৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র গোলাম কবিরকে পরাজিত করেন।