ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া ১৮ হাজার টাকার জন্য ১৮ ঘণ্টা মর্গে লাশ ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় করল এনাম মেডিক্যাল

  • আলী রেজা রাজু
  • আপডেট সময়: ১১:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 92
আলী রেজা রাজু:বকেয়া মাত্র ১৮ হাজার টাকার জন্য এক বৃদ্ধের মরদেহ ১২ ঘণ্টা মর্গে আটকে রেখেছিল সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মৃত আয়নাল বেপারী (৭০) মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের ছেলে সজল বেপারীর অভিযোগ, চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ আগেই ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ২৮ হাজার টাকা দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা দিতে না পারায় মরদেহ মর্গে রেখে দেওয়া হয়। রাতভর বাবার লাশ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে থাকে, স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “রাতভর আমরা অসহায়ের মতো বসে ছিলাম। সকালে এক চিকিৎসকের সহায়তায় কষ্টে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে দিলে বিল কিছুটা সমন্বয় করে মরদেহ ছাড়ে হাসপাতাল।”
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরে দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজনরা।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাত ১:৩০ টার দিকে রোগীর মৃত্যু হয়। স্বজনরা তখন লাশ নিতে পারেনি। সকালে ডাক্তার আত্মীয়ের মাধ্যমে বিল সমন্বয় করে লাশ নিয়ে গেছে।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—বকেয়া বিলের কারণে কি একটি মরদেহও ‘আটকে’ রাখা যায়? মানবিকতা ও চিকিৎসা নীতির জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
ট্যাগ:

বকেয়া ১৮ হাজার টাকার জন্য ১৮ ঘণ্টা মর্গে লাশ ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় করল এনাম মেডিক্যাল

আপডেট সময়: ১১:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আলী রেজা রাজু:বকেয়া মাত্র ১৮ হাজার টাকার জন্য এক বৃদ্ধের মরদেহ ১২ ঘণ্টা মর্গে আটকে রেখেছিল সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মৃত আয়নাল বেপারী (৭০) মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের ছেলে সজল বেপারীর অভিযোগ, চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ আগেই ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ২৮ হাজার টাকা দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা দিতে না পারায় মরদেহ মর্গে রেখে দেওয়া হয়। রাতভর বাবার লাশ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে থাকে, স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “রাতভর আমরা অসহায়ের মতো বসে ছিলাম। সকালে এক চিকিৎসকের সহায়তায় কষ্টে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে দিলে বিল কিছুটা সমন্বয় করে মরদেহ ছাড়ে হাসপাতাল।”
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরে দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজনরা।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাত ১:৩০ টার দিকে রোগীর মৃত্যু হয়। স্বজনরা তখন লাশ নিতে পারেনি। সকালে ডাক্তার আত্মীয়ের মাধ্যমে বিল সমন্বয় করে লাশ নিয়ে গেছে।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—বকেয়া বিলের কারণে কি একটি মরদেহও ‘আটকে’ রাখা যায়? মানবিকতা ও চিকিৎসা নীতির জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন