
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও অধিকাংশ মানুষ গণভোট এর ব্যাপারে ততটা অবগত নয় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ গণভোটে হ্যাঁ অথবা না দেওয়ার ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না বলে জানান। অটো রিক্সাচালক আব্দুর রহিম বলেন, গণভোটে হ্যাঁ অথবা না ভোট কেন দিবো সেটাই তো বুঝিনা। গণভোটে হ্যাঁ কি আর না কি আমরা সাধারন মানুষ এখনো বুঝে উঠতে পারি নাই।
আসন্ন গণভোটকে ঘিরে সাভার ও আশুলিয়া জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। চা-স্টল থেকে শুরু করে কারখানার গেট, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবখানেই এখন এক প্রশ্ন, ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’? বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যাশা, আশঙ্কা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান।
সাভার বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা চাই স্থিতিশীলতা। যদি গণভোটের মাধ্যমে দেশের জন্য ভালো কিছু আসে, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই উচিত। তবে আগে পরিষ্কার করে জানতে চাই, এর ফল কী হবে।” তার মতে, সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ার একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক রিনা আক্তার ভিন্ন মত দেন। তিনি বলেন, “আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় বিষয় কাজের নিরাপত্তা আর ন্যায্য মজুরি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দেওয়ার আগে দেখতে হবে এতে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার কতটা সুরক্ষিত হবে।” তার ভাষ্য, শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব প্রভাবই হবে সিদ্ধান্তের মূল বিবেচ্য।
স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক মাহবুব হোসেন মনে করেন, গণভোট একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, তবে জনগণকে স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ তথ্য দিতে হবে। “অনেকেই বিষয়টি পুরোপুরি বোঝেন না। ফলে আবেগ বা দলীয় অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন,” বলেন তিনি। তার মতে, সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সাভার পৌর এলাকার গৃহিণী শারমিন সুলতানা বলেন, “আমরা রাজনীতি খুব বুঝি না। কিন্তু চাই এমন সিদ্ধান্ত, যাতে দ্রব্যমূল্য কমে, সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ে।” তার মতে, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—যেটিই হোক, তা যেন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আশুলিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর রহমান বলেন, “গণভোট জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। তবে প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি মনে করেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচার করা দরকার।
এদিকে কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সাভারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, “গণভোট নতুন কিছু নয়, কিন্তু ফলাফল যেন জাতীয় ঐক্য নষ্ট না করে। বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসাই এখন জরুরি।”
সার্বিকভাবে দেখা যায়, সাভার ও আশুলিয়ায় মানুষ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার চেয়ে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বেশি ভাবছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা—এসবই তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণাও ধীরে ধীরে জোরদার হচ্ছে, তবে সাধারণ ভোটাররা এখনো অপেক্ষা করছেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তার জন্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গণভোটকে ঘিরে সাভার-আশুলিয়ায় জনমত একমুখী নয়; বরং প্রত্যাশা ও বাস্তবতার হিসাব কষেই মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে চান। এখন দেখার বিষয়, প্রচারণা ও আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকে পড়ে এ জনপদের গনভোটের ফলাফল।
রিপোর্টারের নাম 










