
ঢাকার অদূরে অবস্থিত সাভার শুধু শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি থেকে শুরু করে আধুনিক নাটক, সংগীত ও আবৃত্তিচর্চা—সব মিলিয়ে সাভার একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এখানকার সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজে সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করছে।
সাভারের গ্রামবাংলায় এখনো বেঁচে আছে লোকগান, পালাগান, জারি-সারি ও ভাটিয়ালি সংগীতের ধারা। বিভিন্ন উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে এসব লোকজ সংস্কৃতির চর্চা দেখা যায়। এতে করে নতুন প্রজন্ম নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। পাশাপাশি গ্রামীণ নাট্য ও যাত্রাপালাও সাভারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে।
শহরাঞ্চলে গড়ে ওঠা নাট্যদল, সংগীত বিদ্যালয় ও আবৃত্তি সংগঠন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করেছে। নিয়মিত মঞ্চনাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সাভারের তরুণরা শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করছে এবং সুস্থ মানসিকতা গঠনে ভূমিকা রাখছে।
সাভারে বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে গান, কবিতা, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরা হয়। এতে করে সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি জাতীয় মূল্যবোধও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সাভারে বসবাস করছে। এই বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে সাভারে এক ধরনের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের খাবার, গান ও আচার-অনুষ্ঠানের সংমিশ্রণে সাভারের সাংস্কৃতিক বিদ্যমান।
রাউফুর রহমান পরাগ 










