
ঢাকার অদূরে শিল্প ও আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত সাভারে সম্প্রতি চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন কিংবা রাত—কোনো সময়ই নিরাপদ বোধ করছেন না সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক এমনকি গণপরিবহনেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সাভারের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে গভীর রাতে বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে তালা ভেঙে বা জানালা কেটে চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
সড়ক ও জনবহুল এলাকায় ছিনতাইও ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্জন সড়ক ও অল্প আলোযুক্ত এলাকাগুলোতে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। পথচারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন। অনেক সময় বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীদের হাতে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
ব্যবসায়ীরাও এই অপরাধ প্রবণতার শিকার হচ্ছেন। দোকানপাট ও গুদামে চুরির কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত খরচ করে সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তবুও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অপর্যাপ্ত পুলিশ টহল, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়াই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। অনেক এলাকায় রাতে পুলিশি উপস্থিতি খুব কম দেখা যায়, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন। নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।
রিপোর্টারের নাম 










