
ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চলখ্যাত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ। অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের কারণে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থার বেহাল দশা থেকে শুরু করে মাদক, যানজট, গ্যাস সংকট, ময়লা ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানা সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
সাভার ও আশুলিয়ার প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। খানাখন্দে ভরা সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্মজীবী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানাগামী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় পথচারীদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অঞ্চলের আরেকটি বড় সমস্যা যানজট। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও আবাসন প্রকল্পের কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। তার ওপর নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার দাপটে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোর ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনও সাভার ও আশুলিয়ার একটি ভয়াবহ জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বস্তি ও বেদে পল্লী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের অভিযান চললেও স্থায়ী সমাধান আসছে না। মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে, পাশাপাশি বেড়েছে চুরি, ছিনতাই ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও নিত্যদিনের ভোগান্তির আরেক নাম। শীতকাল কিংবা উৎসব মৌসুম এলেই সিলিন্ডার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।
ময়লা ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা সাভার ও আশুলিয়ার পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণুর ঝুঁকি। অনেক এলাকায় ময়লা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মহলের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে, যা জননিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এ ছাড়া মশা ও পথকুকুরের উপদ্রব জনদুর্ভোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে মশার বংশবিস্তার বেড়েছে, ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পথকুকুরের আক্রমণে শিশু ও বৃদ্ধরা আতঙ্কে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব সমস্যা নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। দ্রুত সড়ক সংস্কার, মাদক নির্মূল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠু ময়লা ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাভার ও আশুলিয়ার টেকসই উন্নয়নের জন্য জনদুর্ভোগ কমানো এখন সময়ের দাবি। নইলে শিল্প ও জনবহুল এই এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।
এন. এস. সুজন 










