ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বাধায় আটকে আছে নির্মাণকাজ, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার গাছের ডালপালার কারণে নিজ জমিতে ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না এক ব্যবসায়ী। বিষয়টি সমাধানে একাধিক সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। উল্টো বিভিন্ন দপ্তরে ‘টেবিল টু টেবিল’ ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি তার।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় সাগর সুপার মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিক সমীর কুমার নাগ। এ সময় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত প্রতিকার কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমীর কুমার নাগ বলেন, নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তিনি ‘সাগর সুপার মার্কেট’ নামে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। বর্তমানে ভবনটির দোতলার নির্মাণকাজ চলমান। কিন্তু মার্কেটের সীমানা ঘেঁষা শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি বড় মেহগনি গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে তার ভবনের ছাদ ও পিলারের ওপর এসে পড়েছে। এতে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি একাধিকবার শারমিন গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি গাছের ডালপালা ছেঁটে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বন বিভাগের অনুমতির দোহাই দিয়ে ডাল কাটতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।”
প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, প্রথমে গাছের ডাল কাটার বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের কাছে গেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। আবার ইউএনও কার্যালয়ে গেলে বলা হয়, বিষয়টি বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হলেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না।
বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি সাভার উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারখানার গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে ওই ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের ওপর পড়েছে, যা নির্মাণকাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে। পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ জমি সংক্রান্ত মামলা থাকার দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র বন কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সমীর কুমার নাগ আরও বলেন, বন বিভাগের সুপারিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শারমিন গ্রুপ কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। এ ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ডাল কাটার ব্যবস্থা না নিয়ে কারখানা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে সময় নেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিনের পর দিন আমার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে আমি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকেই কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছি না।
প্রতিবেদনে প্রাচীর অতিক্রম করা ডালপালা কাটার সুপারিশ থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শারমিন গ্রুপের অসহযোগিতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ট্যাগ:

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বাধায় আটকে আছে নির্মাণকাজ, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০৭:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার গাছের ডালপালার কারণে নিজ জমিতে ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না এক ব্যবসায়ী। বিষয়টি সমাধানে একাধিক সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। উল্টো বিভিন্ন দপ্তরে ‘টেবিল টু টেবিল’ ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি তার।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় সাগর সুপার মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিক সমীর কুমার নাগ। এ সময় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত প্রতিকার কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমীর কুমার নাগ বলেন, নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তিনি ‘সাগর সুপার মার্কেট’ নামে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। বর্তমানে ভবনটির দোতলার নির্মাণকাজ চলমান। কিন্তু মার্কেটের সীমানা ঘেঁষা শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি বড় মেহগনি গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে তার ভবনের ছাদ ও পিলারের ওপর এসে পড়েছে। এতে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি একাধিকবার শারমিন গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি গাছের ডালপালা ছেঁটে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বন বিভাগের অনুমতির দোহাই দিয়ে ডাল কাটতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।”
প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, প্রথমে গাছের ডাল কাটার বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের কাছে গেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। আবার ইউএনও কার্যালয়ে গেলে বলা হয়, বিষয়টি বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হলেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না।
বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি সাভার উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারখানার গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে ওই ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের ওপর পড়েছে, যা নির্মাণকাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে। পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ জমি সংক্রান্ত মামলা থাকার দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র বন কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সমীর কুমার নাগ আরও বলেন, বন বিভাগের সুপারিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শারমিন গ্রুপ কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। এ ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ডাল কাটার ব্যবস্থা না নিয়ে কারখানা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে সময় নেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিনের পর দিন আমার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে আমি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকেই কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছি না।
প্রতিবেদনে প্রাচীর অতিক্রম করা ডালপালা কাটার সুপারিশ থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শারমিন গ্রুপের অসহযোগিতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।