ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

সাভারে আলোচিত ৬টি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্রাট নামে একজনকে গ্রেফতারের সাভারবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাভার উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। খুন, চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিন কিংবা রাত—কোনো সময়ই নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না সাভারের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকা, আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও ধামসোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রায়ই ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাই, মোটরসাইকেল চুরি এবং বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ছে কিশোর অপরাধ, চুরি ও সহিংসতা। স্থানীয় এক দোকানি বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝামেলা হচ্ছে। মাদক সেবন করে কিশোররা রাস্তায় হৈচৈ করে, প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়।”
এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও পথচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সাভারের একাধিক বাসিন্দা জানান, পুলিশের টহল পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ দিয়েও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। তাদের মতে, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, “চুরি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। এতে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে।”
তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছে। সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়—স্থায়ী সমাধানের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সাভারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাভারের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগ:

সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আপডেট সময়: ১০:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে আলোচিত ৬টি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্রাট নামে একজনকে গ্রেফতারের সাভারবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাভার উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। খুন, চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিন কিংবা রাত—কোনো সময়ই নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না সাভারের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকা, আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও ধামসোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রায়ই ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাই, মোটরসাইকেল চুরি এবং বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ছে কিশোর অপরাধ, চুরি ও সহিংসতা। স্থানীয় এক দোকানি বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝামেলা হচ্ছে। মাদক সেবন করে কিশোররা রাস্তায় হৈচৈ করে, প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়।”
এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও পথচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সাভারের একাধিক বাসিন্দা জানান, পুলিশের টহল পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ দিয়েও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। তাদের মতে, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, “চুরি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। এতে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে।”
তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছে। সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়—স্থায়ী সমাধানের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সাভারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাভারের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।