
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বাড়ায় আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ না পেয়ে অনেক পর্যটককে সমুদ্রসৈকতের পাশে রাত কাটাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা।
সৈকতের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন কক্সবাজারে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। ছুটির দিন কিংবা বিশেষ উপলক্ষে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে গেলে আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পর্যটকদের অভিযোগ, আগে থেকে হোটেল বুকিং না করে আসা অনেকেই শেষ মুহূর্তে থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার কোথাও কক্ষ পাওয়া গেলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন স্বল্প আয়ের পর্যটকেরা।
হোটেল না পেয়ে কেউ কেউ সৈকতের পাশে বসে রাত পার করছেন, আবার অনেকে বেঞ্চ কিংবা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক পর্যটকদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি, শৌচাগার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পর্যটকদের ভাষ্য, পরিবার নিয়ে আনন্দভ্রমণে এসে রাত কাটানোর নিরাপদ জায়গা না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। পর্যটন নগরীতে পর্যাপ্ত আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেলভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হোটেল-মোটেলগুলোর কক্ষ ব্যবস্থাপনা, বুকিং কার্যক্রম এবং পর্যটকসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসনসংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে পর্যটকেরা আগেই থাকার জায়গা নিশ্চিত করতে পারবেন।
পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে শুধু সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য নয়, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্টাফ রিপোর্টার 













