
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পোশাকশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা। নির্মাণাধীন আশুলিয়া-ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ভাঙাচোরা সড়ক এর মূল কারণ হিসেবে দেখছে পথচারীরা। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, সড়কে শৃঙ্খলার অভাব, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে মানুষের। পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপ, আর্থিক ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ।
বাইপাইল আশুলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সংযোগস্থল। এই এলাকা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদেরও এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। ফলে যানবাহনের চাপ বাড়লেই বাইপাইল এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক সময় অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
যানজটে ভোগান্তির শিকার এক পোশাকশ্রমিক বলেন, প্রতিদিন সময়মতো কারখানায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে আগেভাগে বের হতে হয়। কিন্তু বাইপাইলে এসে যানজটে আটকে পড়লে আর কিছু করার থাকে না। যানজটের কারণে দেরি হলে অনেক সময় কারখানায় জবাবদিহি করতে হয়। এতে আমাদের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
একজন কর্মজীবী যাত্রী মাহফুজুর রহমান বলেন, সড়কে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, সেই তুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হওয়া দরকার। প্রতিদিন যানজটে আটকে থেকে অনেক সময় নষ্ট হয়। অফিসে যাওয়া কিংবা জরুরি কাজে বের হলেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মহসিন আলী বলেন, বাইপাইল এলাকায় যানজটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে। ক্রেতা ও পণ্যবাহী যানবাহন সময়মতো আসতে পারে না। সড়কে যানবাহন আটকে থাকায় দোকানের সামনে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়। প্রতিদিন একই পরিস্থিতি দেখতে দেখতে এলাকাবাসী বিরক্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, অটোরিকশার চলাচল, সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা যানজটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে কর্মদিবসে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়ে ওঠে। এতে রোগী বহনকারী যানবাহনসহ জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
সড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় জ্বালানি অপচয় হচ্ছে এবং পরিবেশদূষণের ঝুঁকিও বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় শ্রমিক ও কর্মজীবীদের কর্মদক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনে বিলম্বের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বাইপাইল এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর তৎপরতা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাইপাইলের যানজট নিরসন করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রতিদিনের বিপুল কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টারের নাম 












