
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করতে এলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের ভিড়, সড়কের পাশে অবস্থান এবং যানবাহনের চাপের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া ব্যক্তিদের ভোগান্তি ছিল বেশি। যানজটের কারণে অনেককে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পথচারীদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
ভোগান্তিতে পড়া পথচারীরা বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। গাছপালা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজনের সময় জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগে থেকেই কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল অবস্থান এবং কর্মসূচিস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
রাউফুর রহমান পরাগ 












