ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে মিললো ৬ জনকে পু/ড়ি/য়ে হ/ত্যা/য় ব্যবহৃত সেই পুলিশ ভ্যান

আশুলিয়ায় গত ২৪ এর ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা পুলিশ ভ্যানটি অবশেষে একটি জমি উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে এর সন্ধান পাওয়া গেল।

‎

‎বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি উন্মোচিত হয়।

‎

‎ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

‎

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে গত ৫ই আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন জীবিত অবস্থায় ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি নাকি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দাবি আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণ করা হোক।

‎

‎অন্য এক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এই গাড়িটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। এটি ডাম্পিংয়ে না পাঠিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।

‎

‎বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অফিসার ইনচার্জ (রিজার্ভ ফোর্স) শহিদুল বলেন, গাড়িটি তো এভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি কোর্টের আলামত, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ লাগবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‎

‎উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও পরে নিহত ও আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর সেই ভ্যানটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় পুনরায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎

‎

ট্যাগ:

আশুলিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে মিললো ৬ জনকে পু/ড়ি/য়ে হ/ত্যা/য় ব্যবহৃত সেই পুলিশ ভ্যান

আপডেট সময়: ০৮:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

আশুলিয়ায় গত ২৪ এর ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা পুলিশ ভ্যানটি অবশেষে একটি জমি উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে এর সন্ধান পাওয়া গেল।

‎

‎বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি উন্মোচিত হয়।

‎

‎ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

‎

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে গত ৫ই আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন জীবিত অবস্থায় ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি নাকি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দাবি আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণ করা হোক।

‎

‎অন্য এক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এই গাড়িটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। এটি ডাম্পিংয়ে না পাঠিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।

‎

‎বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অফিসার ইনচার্জ (রিজার্ভ ফোর্স) শহিদুল বলেন, গাড়িটি তো এভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি কোর্টের আলামত, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ লাগবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‎

‎উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও পরে নিহত ও আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর সেই ভ্যানটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় পুনরায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎

‎