ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়কে হকার ও অটোরিকশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় এলাকাবাসী

সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে হকার ও অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের পাশে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে হকারদের দোকান বসানো এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অটোরিকশার যত্রতত্র চলাচল ও দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যা থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।

 

সাভার বাসস্ট্যান্ড, উলাইল, গেন্ডা, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, শিমুলতলা ও নবীনগরসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় মহাসড়কের পাশে হকারদের বসে পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ।

 

সাভারের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে হকার বসে থাকেন, আর অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। এতে সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় লাগে।

 

উলাইল এলাকার এক পথচারী বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কের পাশে হাঁটতে হয়। অটোরিকশা হঠাৎ সামনে চলে আসে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

আশুলিয়ার এক পোশাকশ্রমিকের ভাষ্য, সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় এবং ছুটির পর সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। অটোরিকশাগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়। ফলে বাস ও অন্যান্য যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট স্থানে হকার পুনর্বাসন এবং অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন ও যত্রতত্র থামার প্রবণতা যানজটের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা রাস্তার পাশে বা মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললে পেছনে থাকা যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়।

 

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা এবং অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে হকার ও চালকদেরও জীবিকা বজায় থাকবে।

 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়ককে যানজট, দখল ও বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। সাময়িক অভিযান নয়, কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মহাসড়কের হকার ও অটোরিকশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান তারা।

ট্যাগ:

সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়কে হকার ও অটোরিকশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় এলাকাবাসী

আপডেট সময়: ০৯:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে হকার ও অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের পাশে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে হকারদের দোকান বসানো এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অটোরিকশার যত্রতত্র চলাচল ও দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যা থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।

 

সাভার বাসস্ট্যান্ড, উলাইল, গেন্ডা, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, শিমুলতলা ও নবীনগরসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় মহাসড়কের পাশে হকারদের বসে পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ।

 

সাভারের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে হকার বসে থাকেন, আর অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। এতে সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় লাগে।

 

উলাইল এলাকার এক পথচারী বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কের পাশে হাঁটতে হয়। অটোরিকশা হঠাৎ সামনে চলে আসে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

আশুলিয়ার এক পোশাকশ্রমিকের ভাষ্য, সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় এবং ছুটির পর সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। অটোরিকশাগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়। ফলে বাস ও অন্যান্য যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট স্থানে হকার পুনর্বাসন এবং অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন ও যত্রতত্র থামার প্রবণতা যানজটের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা রাস্তার পাশে বা মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললে পেছনে থাকা যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়।

 

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা এবং অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে হকার ও চালকদেরও জীবিকা বজায় থাকবে।

 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়ককে যানজট, দখল ও বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। সাময়িক অভিযান নয়, কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মহাসড়কের হকার ও অটোরিকশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান তারা।