
সাভার ও আশুলিয়ায় দিন দিন তীব্র হচ্ছে ছোট নোটের সংকট। বিশেষ করে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর সঙ্গে বাজারে বেড়েছে ছেঁড়া, ফাটা ও অতিরিক্ত ময়লা নোটের ব্যবহার। এর মধ্যে বর্তমানে বর্ষাকাল হওয়ায় বৃষ্টির কারণে নোটগুলো ভেজা থাকায় চালানো অনেকটা কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। অনেক দোকানদার ও পরিবহন শ্রমিক এসব নোট নিতে অনীহা প্রকাশ করায় এক হাতে থাকা টাকা অন্য হাতে দেওয়ার সময় নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
সাভার বাসস্ট্যান্ড, হেমায়েতপুর, উলাইল, গেন্ডা, নবীনগর, আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, শিমুলিয়া ও জিরাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট নোটের সংকট বেশি চোখে পড়ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাস, অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহনে ভাড়া পরিশোধের সময় ছোট নোট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। আবার ভাঙতি হিসেবে পাওয়া নোটের কোনোটি ছেঁড়া বা জীর্ণ হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তা চালাতে গিয়ে নতুন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সাভার বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাড়া দেওয়ার সময় ১০ বা ২০ টাকার নোট প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাতে থাকা বড় নোট ভাঙাতে গেলে অনেক সময় দোকানদারও ছোট নোট দিতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিতে হয়।
অটোরিকশার এক চালক বলেন, আমাদের প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিতে হয়। অনেক সময় যাত্রীরা ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট দেন। কিন্তু আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ছোট টাকা থাকে না। এতে যাত্রী ও চালক—দুই পক্ষের মধ্যেই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সকাল থেকে বিক্রি করে যে টাকা জমে, তার মধ্যে বড় নোট বেশি থাকে। কিন্তু ক্রেতারা ছোট নোট খোঁজেন। আবার ছেঁড়া নোট পেলে অনেকে নিতে চান না। ব্যাংকে গিয়ে এসব নোট পরিবর্তন করতেও সময় লাগে।
শুধু ভাঙতি না পাওয়াই নয়, ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক দোকানদার পুরোনো বা ছেঁড়া নোট গ্রহণ না করায় গ্রাহককে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিষয়টি বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হেমায়েতপুরের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, দিন শেষে হাতে যে টাকা থাকে, তার কিছু অংশ যদি ছেঁড়া হয় তাহলে পরদিন বাজারে গিয়ে সেটা চালাতে সমস্যা হয়। অনেক দোকানদার সরাসরি নিতে চান না। তখন টাকা বদলাতে সময় ও বাড়তি ঝামেলা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নগদ লেনদেন বেশি হওয়া এলাকাগুলোতে ছোট মূল্যমানের নোটের পর্যাপ্ত সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত নোট দ্রুত সংগ্রহ ও পরিবর্তনের ব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন। বাজারে অচল বা অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত নোটের circulation কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের দাবি, সাভার ও আশুলিয়ার ব্যাংকগুলোতে ছোট নোটের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ছেঁড়া ও জীর্ণ নোট সহজে পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হোক। এতে নগদ লেনদেনে ভোগান্তি কমবে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনের ছোটখাটো কেনাকাটায় বাড়তি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।
স্টাফ রিপোর্টার 











