ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার ও আশুলিয়ায় বেড়েই চলেছে কুকুরের উপদ্রব, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে পথকুকুরের উপদ্রব। সকাল কিংবা গভীর রাত—সব সময়েই সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় দলবদ্ধভাবে কুকুর ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষ ও পোশাকশ্রমিকরা। হঠাৎ আক্রমণ, ধাওয়া ও কামড়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, নরসিংহপুর, কাঠগড়া এবং সাভারের গেন্ডা, ব্যাংক টাউন, ব্যাংক কলোনি, আমিনবাজার, রাজফুলবাড়িয়া, নামাবাজার ও হেমায়েতপুর এলাকায় কুকুরের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পর বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান বাসিন্দারা।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আলাউদ্দিন বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরতে খুব ভয় লাগে। কুকুরের দল হঠাৎ ধাওয়া করে। কয়েকদিন আগে আমার এক সহকর্মীকে কুকুর কামড় দিয়েছে।” একই এলাকার গৃহবধূ রাশেদা বেগম জানান, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে দুশ্চিন্তা হয়। সকালে গেটের সামনে অনেক কুকুর থাকে।”
পোশাকশ্রমিকদের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারখানায় যাতায়াতের সময় ভোর বা রাতে কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। নরসিংহপুর এলাকার এক নারী শ্রমিক বলেন, “ভোরে কারখানায় যেতে হলে কয়েকজন মিলে বের হই। একা বের হলে কুকুর তাড়া করে।” এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে যাতায়াত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শুধু আক্রমণ নয়, কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের ঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নিলে জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বিলম্ব করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কুকুর নিধন নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে সাভারের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সীমিত জনবল ও বাজেটের কারণে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগছে।” তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সাভার ও আশুলিয়ায় কুকুরের উপদ্রব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও টেকসই পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
ট্যাগ:

সাভার ও আশুলিয়ায় বেড়েই চলেছে কুকুরের উপদ্রব, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময়: ১০:৪৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে পথকুকুরের উপদ্রব। সকাল কিংবা গভীর রাত—সব সময়েই সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় দলবদ্ধভাবে কুকুর ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষ ও পোশাকশ্রমিকরা। হঠাৎ আক্রমণ, ধাওয়া ও কামড়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, নরসিংহপুর, কাঠগড়া এবং সাভারের গেন্ডা, ব্যাংক টাউন, ব্যাংক কলোনি, আমিনবাজার, রাজফুলবাড়িয়া, নামাবাজার ও হেমায়েতপুর এলাকায় কুকুরের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পর বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান বাসিন্দারা।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আলাউদ্দিন বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরতে খুব ভয় লাগে। কুকুরের দল হঠাৎ ধাওয়া করে। কয়েকদিন আগে আমার এক সহকর্মীকে কুকুর কামড় দিয়েছে।” একই এলাকার গৃহবধূ রাশেদা বেগম জানান, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে দুশ্চিন্তা হয়। সকালে গেটের সামনে অনেক কুকুর থাকে।”
পোশাকশ্রমিকদের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারখানায় যাতায়াতের সময় ভোর বা রাতে কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। নরসিংহপুর এলাকার এক নারী শ্রমিক বলেন, “ভোরে কারখানায় যেতে হলে কয়েকজন মিলে বের হই। একা বের হলে কুকুর তাড়া করে।” এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে যাতায়াত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শুধু আক্রমণ নয়, কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের ঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নিলে জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বিলম্ব করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কুকুর নিধন নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে সাভারের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সীমিত জনবল ও বাজেটের কারণে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগছে।” তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সাভার ও আশুলিয়ায় কুকুরের উপদ্রব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও টেকসই পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।