
ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন বাসিন্দারা। দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ভোর ও গভীর রাতে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের ব্যস্ত সময়ে চুলা জ্বলছে না। এতে একদিকে যেমন গৃহিণীদের ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ও সন্ধ্যার সময় গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকলেও ওই সময়েই গ্যাসের চাপ সবচেয়ে কম থাকে। ফলে পরিবারের সদস্যদের জন্য সময়মতো খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাজার থেকে রান্না করা খাবার কিনছেন কিংবা বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে মাসিক পারিবারিক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
সাভারের হেমায়েতপুর, তেঁতুলঝোড়া, বিরুলিয়া, সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন অংশসহ আশুলিয়ার জামগড়া, বাইপাইল, আশুলিয়া বাজার, নিশ্চিন্তপুর, শিমুলিয়া ও আশপাশের কিছু আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও দিনের পর দিন একই পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
সাভারের এক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে হয়। কিন্তু তখন চুলায় গ্যাসের চাপ থাকে না। অনেক সময় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রান্না করা যায় না। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার গৃহিণী ফরিদা পারভীন বলেন, সন্ধ্যায় রান্নার সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। পরিবারের সবাই কাজ শেষে বাসায় ফেরে, তখন রান্না করতে না পারলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। গ্যাসের সমস্যার কারণে সংসারের খরচও বেড়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, আগে নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও এখন অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে চুলা জ্বলছে না। ফলে রান্নার পাশাপাশি পানি গরম করা, শিশুদের খাবার তৈরি করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালি কাজেও সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে। একই সঙ্গে রান্নার সময় পরিবর্তন করতে গিয়ে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সময়সূচিও ব্যাহত হচ্ছে।
সাভারের চাকরিজীবী সুমাইয়া আক্তার বলেন, অফিসে যাওয়ার আগে রান্না করে বের হতে হয়। কিন্তু সকালে গ্যাস না থাকায় অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার কিনে নিতে হচ্ছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে।
আশুলিয়ার এক শিক্ষার্থী বলেন, সকালে গ্যাস না থাকলে নাশতা তৈরি হতে দেরি হয়। অনেক সময় স্কুল বা কোচিংয়ে যাওয়ার সময়ও পরিবর্তন করতে হয়।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবাসিক গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ বাড়ানো নয়, পুরোনো পাইপলাইন, সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আর ব্যাহত না হয়, সেজন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং সমস্যার কারণ সম্পর্কে গ্রাহকদের স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
সাভার ও আশুলিয়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে গ্যাস সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এখন দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
স্টাফ রিপোর্টার 











