
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রধান ড্রেনেজ পাইপ কেটে অবৈধভাবে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্রের বাধা ও হামলার চেষ্টার মুখে পড়েছেন পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়ার
জামগড়া ছয়তলা এলাকার রূপায়ণ সিটির গেটসংলগ্ন ৫৯৮ নম্বর পিলারের কাছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামগড়া এলাকার বাড়ির মালিক মো. আলমগীর ও ব্যবসায়ী মো. বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রধান পানি নিষ্কাশন লাইনে কেটে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পানি সরাসরি প্রকল্পের সরকারি ড্রেনে ফেলার উদ্দেশ্যে ওই সংযোগ দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ফেস দ্য পিপল-এর প্রতিনিধিসহ পাঁচজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে খবর পেয়ে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট ও সাইট ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের ড্রেন কেটে এভাবে বর্জ্য পানির সংযোগ দেওয়ার কোনো অনুমোদন নেই। তাদের দাবি, এ ধরনের অননুমোদিত সংযোগ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং মূল ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পরে সাংবাদিকরা ওই কাজের সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে মো. আলমগীর ও মো. বিপ্লব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে হামলার চেষ্টা চালায় এবং তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের সহায়তা করেন। পরে নিজেদের সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ঘটনার পর পাঁচ ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী বাদী হয়ে মো. বিপ্লব, মো. আলমগীর এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত জিডি পেয়েছি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, অনিয়ম বা সম্ভাব্য দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ ও তা জনসম্মুখে তুলে ধরা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, হামলার চেষ্টা কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 













