ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়কজুড়ে গর্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ

ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও মেরামতের কাজ যথাযথভাবে না হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এসব গর্তের পরিমাণ। বৃষ্টির পানি জমে অনেক স্থানে গর্তগুলো আরও গভীর হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাভার-আশুলিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। আবার ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক যানবাহন পাশের লেনে ঢুকে পড়ায় তৈরি হচ্ছে সংঘর্ষের ঝুঁকি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এসব গর্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গর্তে পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় বোঝাই যায় না কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে। ফলে দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও চালকরা আহত হচ্ছেন।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কোথায় গর্ত আছে, তা সব সময় বোঝা যায় না। বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত ঢেকে যায়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাভারের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেলচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের সময় গর্তগুলো সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে হয়। সামনে হঠাৎ গর্ত পড়লে ব্রেক করেও অনেক সময় সামলানো যায় না। কয়েকবার দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।

বাস চালক রফিক বলেন, সড়কের গর্তে পড়ে প্রতিদিনই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে চলার সময় গর্ত এড়াতে গেলে অন্য যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কার আশঙ্কা থাকে। এতে চালক ও যাত্রী—দুজনেরই ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শুধু দুর্ঘটনা নয়, যানজটও বাড়ছে। গর্তের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পোশাকশ্রমিক জাহানারা বেগম বলেন, সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। এর মধ্যে গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলে। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বের হতে হয়। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাময়িকভাবে গর্তে ইট, বালু বা খোয়া ফেলে তা মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাদের দাবি, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের মান নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

সাভারের এক কলেজশিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন বাসে করে যাতায়াত করি। গর্তে পড়লে বাসের ভেতরে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। অনেক সময় যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আহত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে এসব সড়ক ব্যবহার করেন। তাই সড়কের বেহাল অবস্থা দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সড়ক ব্যবহারকারীদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ গর্তগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অস্থায়ীভাবে নিরাপদ করা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত সড়ক পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর গর্ত ও খানাখন্দ সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

ট্যাগ:

সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়কজুড়ে গর্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ

আপডেট সময়: ০১:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও মেরামতের কাজ যথাযথভাবে না হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এসব গর্তের পরিমাণ। বৃষ্টির পানি জমে অনেক স্থানে গর্তগুলো আরও গভীর হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাভার-আশুলিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। আবার ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক যানবাহন পাশের লেনে ঢুকে পড়ায় তৈরি হচ্ছে সংঘর্ষের ঝুঁকি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এসব গর্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গর্তে পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় বোঝাই যায় না কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে। ফলে দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও চালকরা আহত হচ্ছেন।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কোথায় গর্ত আছে, তা সব সময় বোঝা যায় না। বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত ঢেকে যায়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাভারের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেলচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের সময় গর্তগুলো সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে হয়। সামনে হঠাৎ গর্ত পড়লে ব্রেক করেও অনেক সময় সামলানো যায় না। কয়েকবার দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।

বাস চালক রফিক বলেন, সড়কের গর্তে পড়ে প্রতিদিনই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে চলার সময় গর্ত এড়াতে গেলে অন্য যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কার আশঙ্কা থাকে। এতে চালক ও যাত্রী—দুজনেরই ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শুধু দুর্ঘটনা নয়, যানজটও বাড়ছে। গর্তের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পোশাকশ্রমিক জাহানারা বেগম বলেন, সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। এর মধ্যে গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলে। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বের হতে হয়। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাময়িকভাবে গর্তে ইট, বালু বা খোয়া ফেলে তা মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাদের দাবি, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের মান নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

সাভারের এক কলেজশিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন বাসে করে যাতায়াত করি। গর্তে পড়লে বাসের ভেতরে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। অনেক সময় যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আহত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে এসব সড়ক ব্যবহার করেন। তাই সড়কের বেহাল অবস্থা দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সড়ক ব্যবহারকারীদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ গর্তগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অস্থায়ীভাবে নিরাপদ করা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত সড়ক পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর গর্ত ও খানাখন্দ সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হবে।