
ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির একটি অবৈধ কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া এই পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমরাইল এলাকায় বসতবাড়ির কাছাকাছি অবৈধ চুল্লি স্থাপন করে নিয়মিত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এই চুল্লিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া ও ছাই নির্গত হয়ে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত করছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার দিকে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়ার ঘনত্ব এত বেশি থাকে যে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর ফলে এলাকায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। দীর্ঘসময় এমন ধোঁয়া ও পরিবেশের মধ্যে বসবাস করায় স্থানীয়দের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য। চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও কালো ছাই উড়ে আশপাশের ফলদ গাছপালা এবং কৃষিজ জমিতে পড়ছে। এর ফলে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং গাছের ফলন কমে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ কাঠ পুড়ানোর কারণে একদিকে যেমন বনাঞ্চল ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চুল্লি থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে অবৈধ চুল্লিগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নিয়ে এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশরাফুল আলম 










