
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পপি রানী সরকার নামের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বামী কর্তৃক নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পরিণতিতেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই নৃশংস ঘটনায় ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রামসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, শোক এবং তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার ২(আগস্ট) ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা লিটন সরকার প্রায়ই তার স্ত্রী পপি রানী সরকারকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করতেন। পারিবারিক নানা কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ পারিবারিক বিরোধের জেরে পপি রানীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু ঘটে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঠিক কী কারণে বা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পরই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতারে বর্তমানে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকার সাধারণ মানুষ স্তব্ধ। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষী স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতার শিকার আর কোনো নারীকে হতে না হয়।
আশরাফুল আলম 










